লালমনিরহাটে সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যু: লাশ নিয়ে মহাসড়ক অবরোধে উত্তাল হাতীবান্ধা


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:

মোঃ আনিছুল ইসলাম রাজিব
লালমনিরহাট প্রতিনিধি



লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় প্রতিবেশী বিরোধের জেরে গুরুতর আহত এক যুবকের মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তার মরদেহ নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে লালমনিরহাট–বুড়িমারী আঞ্চলিক মহাসড়কের হাতীবান্ধা মেডিকেল মোড় এলাকায় এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় সড়কের দুই প্রান্তে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার হোসেন (৩৫) নামের ওই যুবকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী শহিদুল ইসলামের জমি-সংক্রান্ত ও ব্যক্তিগত কিছু বিরোধ ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ আগস্ট ইউক্যালিপ্টাস গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শহিদুল ইসলামের লোকজন আনোয়ারকে মারধর করে গুরুতর আহত করে।

অবস্থার অবনতি হলে স্থানীয়রা তাকে প্রথমে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে প্রায় দুই সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে রোববার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আনোয়ার। নিহত আনোয়ার উপজেলার সিংগিমারী ইউনিয়নের অহেদ আলীর ছেলে।

ঘটনার দিনই নিহতের পরিবার চারজনকে আসামি করে হাতীবান্ধা থানায় মামলা দায়ের করে। পুলিশ পরদিনই প্রধান আসামি শহিদুল ইসলামসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। তবে পরবর্তীতে তারা জামিনে মুক্তি পান।

আনোয়ারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুপুরে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শত শত মানুষ মহাসড়কে জড়ো হয়ে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। মরদেহ ফেলে রেখে সড়ক অবরোধ করায় রাস্তায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধদের শান্ত করেন লালমনিরহাটের সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) জয়ন্ত কুমার। তিনি ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিলে স্থানীয়রা অবরোধ তুলে নেন।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুন্নবী বলেন, “প্রথমে মামলাটি ছিল মারধরের মামলা। আনোয়ারের মৃত্যুর পর সেটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করা হবে। ইতোমধ্যেই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বাকিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।”

নিহতের পরিবার দাবি করেছে, হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে, যার কারণে তারা দ্রুত জামিনে মুক্ত হয়ে যায়। তারা এ ঘটনায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ