সরকারি আড়াই একর জমি দখলের চেষ্টা জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ২৭ আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:

মোঃ সেলিম সাজ্জাদ 
স্টাফ রিপোর্টার ময়মনসিংহ 


একসময়ের ত্যাগী ছাত্রনেতা, বর্তমানে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলের বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল ও অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। তিনি বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশন (বিজেএমসি)-এর মালিকানাধীন প্রায় আড়াই একর জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ময়মনসিংহ শহরের ব্যস্ততম র‌্যালি মোড়ে অবস্থিত এ জমিটি আদমজী জুট মিলের, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১২৫ কোটি টাকা।

দখলের কৌশল

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলের সহযোগী একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভুয়া উত্তরাধিকার দেখিয়ে জমিটি নিজেদের কব্জায় নিতে চেয়েছিল। রাতের আঁধারে টিন ও কাঠ দিয়ে বেড়া দেওয়া, শ্রমিক পাঠিয়ে জায়গা পরিষ্কার করাসহ নানা কৌশলে একাধিকবার দখলের চেষ্টা হয়। তবে বিজেএমসির কঠোর অবস্থান ও পুলিশের হস্তক্ষেপে জমিটি এখনো দখল হয়নি।

বিজেএমসির অবস্থান

বিজেএমসির কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, “আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গোডাউনের গার্ড আশিক জানান, “২৯ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত বারবার লোকজন এসে জমি ঘিরে ফেলতে চাইত। তারা জায়গা পরিষ্কার করছিল, অনেকটা চোর-পুলিশ খেলার মতো করে এগোচ্ছিল। পরে পুলিশ আসে এবং দুজনকে আটক করে।”

ডেপুটি অডিট অফিসার শাহরিয়ার বলেন,

“জমিটির প্রকৃত মালিক বিজেএমসি। হঠাৎ করেই একজন উত্তরাধিকার দাবিদার উকিল নোটিস পাঠান এবং জায়গা দখলের চেষ্টা শুরু করেন। কিছু লোককে আটক করা হলেও পরে রহস্যজনকভাবে তারা ছাড়া পেয়ে যায়।”

পালিয়ে থাকা ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

৫ জুলাইয়ের পর থেকে মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল পলাতক রয়েছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, তিনি না থাকলেও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরাই ময়মনসিংহ শহরে তার কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

ময়মনসিংহ শহরের সালেহা মার্কেটে তার ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি নিয়মিত বাবুলের পক্ষে ফ্ল্যাট বিক্রি করে টাকার লেনদেন করেন। অভিযোগ আছে, তিনি একসময় ডেভেলপারদের সংগঠনের সভাপতি ছিলেন। সেই সুবাদে সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে যোগসাজশ করে বহু অবৈধ ভবনের অনুমোদন পাইয়ে দেন। এর বিনিময়ে বিভিন্ন ডেভেলপার তাকে বিনামূল্যে একটি করে ফ্ল্যাট দিত। বর্তমানে সেই ফ্ল্যাটগুলো সালেহা মার্কেটের ওই সহযোগীর মাধ্যমে নিয়মিত বিক্রি হচ্ছে এবং টাকার বড় অংশ বাবুলের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

এছাড়া নগরের চুরখাই এলাকায় প্রায় ৩০০ শতক ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখলের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। ভালুকা উপজেলা সদরে আরও ১৫০ শতক জমি দখলের বন্দোবস্ত করেছেন, যেখানে প্রতি শতকের মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। ওই দখল প্রক্রিয়ায় সহযোগী হিসেবে যুক্ত হয়েছেন ভালুকা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হাতেম।

নিজ দলের ভেতরেও মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলের এসব কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে পদ-পদবি ও হয়রানির ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা জানান, সাধারণ সম্পাদকের এসব দখল ও অবৈধ সম্পদ গড়ার কাজে দলের আরও কয়েকজন নেতা জড়িত আছেন, যারা অল্প সময়ে বিত্তশালী হয়েছেন।

তিনি পলাতক থাকায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

চলবে...
গফরগাঁওয়ে তার গ্রামের বাড়িকে ঘিরে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার চাঞ্চল্যকর সব তথ্য নিয়ে প্রকাশিত হবে দ্বিতীয় পর্ব।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ