নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী জনপ্রিয় স্লিপার বাস সার্ভিসের কাউন্টার ম্যানেজার ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে হেলপার থেকে শুরু করে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলা গাছ হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। সাধারণ এক হেলপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও বর্তমান ম্যানেজার পরিচয়ের আড়ালে তিনি ইয়াবা ব্যবসা সিন্ডিকেট, প্রকাশ্য তেলবাজি এবং অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন এক রাজকীয় জীবন। দূরপাল্লার এই আরামদায়ক বাস সার্ভিসের নাম ও ব্যবস্থাপনাকে ব্যবহার করে তিনি অপরাধের বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অতীতে বাসের হেলপার হিসেবে কাজ করা ইব্রাহিম অল্প সময়েই ম্যানেজারের দায়িত্বে এসে অঢেল সম্পত্তির মালিক বনে গেছেন। তার বর্তমান বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং আকস্মিক এই অর্থনৈতিক পরিবর্তন এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মূলত স্লিপার বাসের ম্যানেজার পদের আড়ালে তিনি দীর্ঘকাল ধরে মাদকের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। ঢাকা-কক্সবাজার রুটের বাসগুলোকে কাজে লাগিয়ে ইয়াবা পাচার ও এর পাইকারি ব্যবসার নিরাপদ রুট তৈরি করা হয়েছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্লিপার বাসগুলোর বিশেষ গোপনীয়তা এবং যাত্রীবেশে মাদক বহনকারীদের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
মাদক ব্যবসা ও তেলবাজির পাশাপাশি ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে সুপারভাইজার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বাস সার্ভিসে নতুন সুপারভাইজার নিয়োগের নামে বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের জামানতের টাকা আদায় করা হলেও পরবর্তীতে সেই টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীরা তাদের জামানতের টাকা ফেরত চাইতে গেলে ইব্রাহিম উল্টো তাদেরকে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তার এই রাজকীয় জীবন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে সাধারণ শ্রমিক, কর্মচারী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের চাকরিচ্যুত করা কিংবা মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয় বলেও ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে এলাকার পরিবহন মালিক পক্ষ, সচেতন মহল ও সাধারণ যাত্রীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সামান্য হেলপার থেকে সুপারভাইজার ও ম্যানেজার হয়ে কীভাবে ইব্রাহিম এত বিপুল সম্পদের মালিক হলেন এবং কীভাবে একটি জনপ্রিয় স্লিপার বাস কাউন্টারে এমন অপরাধের রাজত্ব চলছে, তা রহস্যজনক।
অবিলম্বে ইব্রাহিমের এই অবৈধ সম্পদের উৎস, ইয়াবা সিন্ডিকেট, তেলবাজি এবং জামানতের টাকা আত্মসাতের নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন :