কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুলাই গণসমাবেশ করেছে গণসংহতি আন্দোলন


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ০১ আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:

মাহমুদ ইয়াসিন, 
স্টাফ রিপোর্টার,ঢাকাঃ



জুলাই গণহত্যার বিচার, রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার ও আগামী নির্বাচনকে সংস্কার পরিষদের নির্বাচনের দাবিতে শুক্রবার ১ আগস্ট বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুলাই গণসমাবেশ করেছে গণসংহতি আন্দোলন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জননেতা জোনায়েদ সাকি। উক্ত  সমাবেশের উদ্বোধন করেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ জুলফিকার আহমেদ শাকিলের মা আয়েশা বেগম।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে মানুষ বেঁচে থেকেও মরে যাওয়ার অবস্থা ছিল। আবু সাঈদ তা মেনে নেননি। জীবন দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, জনগণের ঐক্য প্রমাণ করেছে, ঐক্য থাকলে ফ্যাসিবাদ যেমন পালিয়েছে, তেমনি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থাকেও কবর দিতে পারবো।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ৭১ সালের শহীদের ঋণ এখনো পূরণ হয় নাই। আমরা শপথ নিচ্ছি ৭১ থেকে ২৪ এর শহীদের আমরা ধারণ করবো। এই শহীদদের ঋণ শোধে আমাদের ঐক্য দরকার নয়তো, আমরা আবার ব্যর্থ হবো। জনগণের ঐক্য প্রমাণ করেছে, ঐক্য থাকলে ফ্যাসিবাদ যেমন পালিয়েছে, তেমনি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থাকেও কবর দিতে পারবো।

তিনি বলেন, অভ্যুত্থান নতুন মানুষ সৃষ্টি করে, কিন্তু আমরা দেখছি পুরোনো লুটপাট-ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। শহীদ পরিবারগুলোর আহাজারি এখনো থামেনি, অথচ সরকার কোনো জবাব দেয়নি। এত বড় রাষ্ট্রযন্ত্র আজও শহীদ ও আহতদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা দিতে পারেনি, তাদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে পারেনি।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ফ্যাসিবাসী রাষ্ট্রের ভিত্তি ছিল মানুষের টাকা লুট করা, ভাগ বাটোয়ারা করা, দুর্নীতি করে, প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে একক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা। লুটপাট দুর্নীতু বন্ধ করতে না পারল নতুন বন্দোবস্ত হবে না। আমাদের মধ্যে নারী, ধর্ম, জাতি ইস্যুতে বিভাজন করা হচ্ছে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ সবাই পরিচয়ের বাইরে আমরা সবাই দেশের নাগরিক। সবার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই ৭১ থেকে ২৪ এর শহীদের প্রতি দায় পূরণ হবে। গণসংহতি আন্দোলন রাজপথ থেকে উঠে এসে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে এবং তারা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে গিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।

গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, ২০১৭ সালেই আমরা বলেছি নতুন রাজনৈতিক চুক্তি ছাড়া এই রাষ্ট্রে কোনো পরিবর্তন আসবে না। আমরা বাংলাদেশপন্থি রাজনীতিতে বিশ্বাসী। আমাদের রাজনীতি জনগণের বৃহত্তর স্বার্থের বাইরে কিছু নয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে অধিকার আদায়ে জীবন দিতে হবে না, সমস্যা সমাধান হবে সংলাপের মাধ্যমে। শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি না করতে চাইলে এই রাষ্ট্রব্যবস্থা বদলাতেই হবে। এটিই হবে ‘জুলাই সনদ’, জনগণের ম্যান্ডেটে গঠিত নতুন চুক্তি।

এছাড়াও সমাবেশে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের নির্বাচন’ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে জুলাই সনদ ও জুলাই ঘোষণাপত্র দেওয়ার দাবি জানান নেতারা।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, মনির উদ্দিন পাপ্পু, তাসলিমা আক্তার, দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু, হাসান মারিফ রুমি, কেন্দ্রীয় সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, দীপক রায়, জুলহাসনাইন বাবু, তরিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সদস্য আলিফ দেওয়ান, সৈকত মল্লিক, সাংগঠনিক উপকমিটির সদস্য সাইফুল্লাহ সিদ্দিক রুমন, কৃষক মজুর সংহতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মশিউর রহমান খান রিচার্ড, সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ প্রমুখ।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ