দলীয় কোন্দল, আঁতাতসহ নানা কারণে খুলনা বিভাগে বিএনপি'র ভরাডুবি


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:

দলীয় কোন্দল, আঁতাতসহ নানা কারণে খুলনা বিভাগে বিএনপি'র ভরাডুবি
______________________________


অভ্যন্তরীণ কোন্দল, দলের মনোনীত প্রার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান, প্রচারণায় অংশগ্রহণে অনীহা, কেন্দ্র ভোটার আনায় সক্রিয় না থাকা, প্রতিপক্ষের সাথে গোপনে আঁতাতের কারণে বিএনপি ঘাটি বলে পরিচিত খুলনা বিভাগে ভরাডুবি হয়েছে, দখল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে   ইসলামী, বিভাগের ৩৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে দাঁড়িপাল্লা জয় পেয়েছে ২৫ টিতে, বিএনপি পেয়েছে মাত্র ১১ টি আসন, অভিভাবকহীন বিএনপি'র দলীয় কোন্দল , সংগঠনিক দুর্বলতা ও তলে তলে জামায়াতে ইসলামের সাথে আঁতাতের কারণে এমন পরাজয় হয়েছে বলে তৃণমূলের মূল্যায়ন, 

খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় থেকে জানা যায়, খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৩৬ টি আসনের মধ্যে খুলনা চারটিতে বিএনপি, দুটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাগেরহাটে জামায়াতে ইসলামী তিনটি, বিএনপি একটিতে, সাতক্ষীরার চারটিতে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী, যশোরের পাঁচটি বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী, একটি বিএনপি, মাগুরার দুটিতেই বিএনপি ঝিনাইদহে তিনটিতে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী, একটি বিএনপি, মেহেরপুরের দুটিতেই বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী, কুষ্টিয়ার তিনটি বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী, একটি বিএনপি ও একটি বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী জয়লাভ করেছে, 

অতীত পরিসংখ্যান  : নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায় খুলনা বিভাগের ৩৬ টি আসনে ৯১- র পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছিল নয়টি, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী ছয়টি, ৯৬,এর সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ১২ টি বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী একটি, ২০০১-র  অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২১,টি   বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী ৭টি, ২০০৮,-এর  নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুইটি ও বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী দুটি আসনে জয় পেয়েছিল, 

পরাজয়ের কারণ :  এক সময় খুলনা বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, সাবেক তথ্যমন্ত্রী তরিকুল ইসলাম, সাবেক স্পিকার রাজ্জাক আলী  ও সাবেক মেয়র এন্ড শেখ তৈয়েবুর রহমান, এখন বিএনপিতে এই মাপের কোন নেতা নেই, অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে খুলনা বিভাগীয় বিএনপি, সর্বশেষ কেন্দ্রীয় বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে শৃঙ্খলা বঙ্গের তার পদ স্থগিত করা হয়, তাকে খুলনা- ২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী করা হলেও পদ ফিরিয়ে দেয়নি দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, তার জায়গায় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, খুলনা বিভাগের ৩৬ টি আসনের সমন্বয় করে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো সক্ষমতা ও সংগঠনিক সমর্থন না থাকায় দিশাহীন বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে, 

অনৈক্যের কারণে দল অনেকটা ছন্নছাড়া অবস্থায় আছে, অধিকাংশ জেলা পর্যায়ের কমিটি নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে, কমিটি নেই অনেক উপজেলা পর্যায়ে,খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, যশোর, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরে দলীয় কোন্দল ভরাডুবিতে ভূমিকা রেখেছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে মনোনয়ন না পাওয়া নেতারা গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীকে হারানোর মিশন নিয়ে নামে এবং তারা সফল হয়েছে, এ ধরনের ভূমিকায় থাকা অনেক নেতার বিরুদ্ধে গোপনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের প্রার্থীর সাথে গোপনে আঁতাত করার অভিযোগ উঠেছে, তারা জানান, বিভাগের ৬ জন বিএনপি নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হাওয়ায় তাদেরকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, এর বাইরেও এক সময়ের প্রভাবশালী বিএনপি নেতা এসএএইচ সেলিম বাগেরহাটের দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, তাদের ভূমিকার কারণে দাঁড়িপাল্লার বিজয় সহজ হয়েছে, 

হেবিওয়েট প্রার্থীর পরাজয়ঃ

খুলনা -২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু পরাজিত হয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে, দল তাকে মনোনয়ন দিলেও পদে না ফেরানোর কারণে সংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগাতে পারেননি তিনি, অনৈক্যের কারণে তার পরাজয় হয়েছে, 

ভিন্ন চিত্র খুলনা - ৫ আসনে, 
সেখানে ধানের শীষের প্রার্থী আলী আজগর লবীর কাছে হেরেছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সেখানে বিএনপি'র কমিটি না থাকলেও সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের পক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়ার কারণে বিজয়ী হতে পেরেছেন, 

ট্রমা আক্রান্ত বিএনপি নেতাকমীঃ তৃণমূল বিএনপি'র অনেক নেতাকর্মীর সাথে কথা বলে জানা যায়, খুলনা বিভাগে বিএনপি'র এই পরাজয় তারা এখনো পর্যন্ত মেনে নিতে পারছেন না, ট্রমার মধ্যে রয়েছেন তারা, দ্রুত বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেবে কেন্দ্র এমন প্রত্যাশা করেছেন তারা।

শেখ শহিদুল ইসলাম মিঠু, 
বিশেষ প্রতিনিধি,


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ