নিজস্ব প্রতিবেদক:
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত টিআর (টেস্ট রিলিফ), কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) এবং কাবিটা প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে কাজ না করেই কিংবা নামমাত্র কাজ সম্পন্ন করে সম্পূর্ণ বিল উত্তোলনের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। কোথাও আবার কয়েক বছর আগের পুরোনো স্থাপনা দেখিয়ে নতুন প্রকল্পের বরাদ্দ আত্মসাতেরও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৭ থেকে ২০ আগস্ট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে সরেজমিন পরিদর্শনকালে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।
রামগোপালপুর ইউনিয়নের দামগাঁও মোড়লপাড়া জামে মসজিদ থেকে ডাউকী রতনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার জন্য ১৪ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং ধুরুয়া বাজার থেকে আগপাড়া চৌরাস্তা পর্যন্ত ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও নামমাত্র কাজ করা হয়েছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে সিংজানী ভূঁইয়া বাড়ি সার্বজনীন পূজা মন্দিরের পাশে। সেখানে পুকুরপাড়ে গাইডওয়াল নির্মাণের জন্য ১ লাখ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৬-৭ বছর আগে নির্মিত একটি পুরোনো গাইডওয়ালকে নতুন কাজ হিসেবে দেখিয়ে সম্পূর্ণ বরাদ্দ আত্মসাৎ করা হয়েছে। স্থানীয় এক বৃদ্ধ ভিডিও বক্তব্যে এই দুর্নীতির কথা স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেছেন।
এসব প্রকল্পের অনিয়মের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী সোয়াদ ও আকাশ ভিডিও বার্তায় অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরেজমিন তদন্ত দাবি করেছেন। তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দ্রুত যথাযথ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে যাওয়া হবে। ডৌহাখলা এলাকার বাসিন্দা আলী আকবরও কাজ না করে সরকারি অর্থ আত্মসাতকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের অনিয়ম এবং সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ৪ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালিয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই অভিযানের তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
অভিযোগের বিষয়ে গৌরীপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলাল উদ্দিন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমিন পাপ্পার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরও) মো. রেজাউল করিম এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং সংশ্লিষ্ট ইউএনও ও পিআইওর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
তবে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, "এসব প্রকল্পের বরাদ্দ কিস্তিভিত্তিক আসে। ৩০ জুনের মধ্যে খরচ করার নিয়ম থাকলেও কিছু অর্থ অবশিষ্ট থাকতে পারে। তবে কোনো কাজ না করেই বিল পরিশোধ করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি যাচাই করতে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাকে দ্রুত সরেজমিনে পাঠানো হবে।"
আপনার মতামত লিখুন :