নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
রাজধানীর মিরপুরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে (ইউনিট-২) চিকিৎসা সেবা নিতে এসে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন সাধারণ রোগীরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ও ইউনিট প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. ফয়জুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে চেম্বারে আসা রোগীদের ঢালাওভাবে একটি নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী রোগীদের দাবি, চলতি বছরের ১ মে থেকে অধ্যাপক ডা. মো. ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী তাঁর নতুন রোগীর সাক্ষাৎকার ফি (ভিজিট) বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা নির্ধারণ করেছেন। এছাড়া পুরাতন রোগীর জন্য ১০০০ টাকা (২ মাসের মধ্যে) এবং রিপোর্ট দেখার ফি ৫০০ টাকা (৭ দিনের মধ্যে) নির্ধারণ করে চেম্বারের দেয়ালে নোটিশ টাঙানো হয়েছে।
নির্ধারিত চড়া ফি পরিশোধ করে রোগীরা চেম্বারে প্রবেশ করার পর, যথাযথ ও দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার পরিবর্তে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তাদের নির্দিষ্ট একটি বেসরকারি হাসপাতালে—বিশেষ করে 'গ্রিন লাইফ হাসপাতালে' ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
"১৫০০ টাকা ভিজিট দিয়ে আমরা আসি একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে সঠিক পরামর্শ ও প্রেসক্রিপশন পেতে। কিন্তু চেম্বারে ঢোকার পরপরই যদি রোগ নিরাময়ের চেয়ে নির্দিষ্ট একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তির ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়, তবে তা সাধারণ রোগীদের জন্য মানসিক ও আর্থিক বড় ধাক্কা। শুধু হাসপাতালে ভর্তির কথা বলার জন্যই যদি ১৫০০ টাকা ফি দিতে হয়, তবে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত রোগীরা কোথায় যাবে?"
চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সচেতন মহলের মতে, সরকারি হাসপাতালের একজন সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার কাছ থেকে রোগীরা আরও সংবেদনশীল আচরণ আশা করেন। কোনো রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া চিকিৎসকের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে, তবে তা যেন কোনো নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বা অন্য কোনো হাসপাতালের প্রসারের জন্য না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
ফি বৃদ্ধির সাথে সাথে সেবার মান এবং রোগীদের সময় দেওয়ার মানসিকতাও উন্নত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন মিরপুর এলাকায় চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। এই বিষয়ে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :