মোল্লাহাটে মুক্তিযোদ্ধা অফিস দখল : বিতর্কে বিএনপি নেতা বায়েজিদ
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ০৩ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
মুক্তিযোদ্ধাদের অফিসে তালা ভেঙে দলীয় কার্যক্রমের অভিযোগ — ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে মুক্তিযোদ্ধা মহল, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার কোদালিয়া ইউনিয়নে মুক্তিযোদ্ধাদের অফিস দখল করে বিএনপি’র দলীয় কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা বায়েজিদ মোল্লার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট স্থানীয় বিএনপি নেতা বায়েজিদ মোল্লা ও মোহাম্মদ মোল্লা মুক্তিযোদ্ধাদের অফিসের তালা ভেঙে ভেতরে থাকা আসবাবপত্র সরিয়ে ফেলেন। এরপর সেখানে দলীয় ব্যানার, পোস্টার ও পতাকা টানিয়ে বিএনপি’র কার্যালয় হিসেবে কার্যক্রম শুরু করেন।
এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা মো. জাফরুজ্জামান, ছবর আলী, আবুল বাশার ও কুব্বত আলীসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, “এটি শুধু একটি অফিস নয়, এটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও গৌরবের প্রতীক। মুক্তিযোদ্ধাদের অফিস দখল মানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অপমান করা।” তারা দ্রুত দখলমুক্ত করার দাবি জানান।
মুক্তিযোদ্ধারা জানান, ২০০৮ সালের নভেম্বরের আগে ভবনটি ছিল কোদালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পরিত্যক্ত গুদামঘর। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্মারক নং ৮২৮/২০০৮ এর মাধ্যমে ভবনটি মুক্তিযোদ্ধা অফিস হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেন। এরপর তারা নিজস্ব অর্থায়নে ভবনটি সংস্কার করে নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা বায়েজিদ মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এটা আমাদের পুরনো অফিস। আমার দাদা মরহুম আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা চেয়ারম্যান থাকাকালে এখানেই বিএনপি’র কার্যক্রম চলত। পরে কিছু ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা জায়গাটি দখল করে নেয়। আমরা শুধু আমাদের পুরনো অফিস পুনরুদ্ধার করেছি।”
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন আল রশীদ বলেন, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দলীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। তাদের সম্মান ও ইতিহাস রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের দাবি জানান তারা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর মোল্লাহাট উপজেলা বিএনপি প্রায় পাঁচ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা প্রদান করেছিল। অথচ দলের স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা অফিস দখলের অভিযোগ জনমনে নানা ধরনের বিতর্ক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
আপনার মতামত লিখুন :