অতীতের অনাচার ও বর্তমানের দর্পণ: ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় জাতি


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ০৭ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:


নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | 

​রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে যারা দেশের রাজনীতি ও শিষ্টাচারের সীমা অতিক্রম করেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে চলমান প্রশাসনিক সংস্কারের ঢেউ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। জনস্বার্থে পুলিশের ৩৩ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সরকারি সিদ্ধান্তকে দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ কেবল একটি প্রশাসনিক রদবদল হিসেবে দেখছে না, বরং এটি তাদের কাছে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এবং ন্যায়বিচারের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

স্মৃতিতে সেই অমানবিকতার চিত্র

​বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সাম্প্রতিক অধ্যায়গুলোতে ক্ষমতার দাপট ও মানবিকতার অবক্ষয়ের যে চিত্র ফুটে উঠেছিল, তা ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাসভবন 'ফিরোজা'য় অবরুদ্ধ করতে বালুর ট্রাক ব্যবহারের মতো জঘন্য ঘটনা দেশের মানুষ কখনো ভোলেনি।

​জনসাধারণ আজও সেই দৃশ্যপট মনে করে শিউরে ওঠে, যেখানে ক্ষমতার মোহে অন্ধ কিছু ব্যক্তি শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে একজন প্রবীণ রাজনীতিকের সাথে অমার্জিত আচরণ করেছিলেন। সেই সময়কার সেই কুশীলবদের কর্মকাণ্ড কেবল রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের কৌশল ছিল না, বরং তা ছিল দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর এক নগ্ন আক্রমণ।

জনতার দাবি: অপরাধের বিচার চাই

​বর্তমানে যারা বাধ্যতামূলক অবসরের তালিকায় এসেছেন, তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে অনেক প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। ভুক্তভোগী মহল এবং সাধারণ জনগণ এখন জোরালো দাবি তুলছেন যে, শুধু অবসরে পাঠানোই যথেষ্ট নয়। যারা আইনকে পদদলিত করেছেন, যারা রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে দলীয় কাজে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করেছেন, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হোক।

আগামীর পথচলা

​জনগণের বিশ্বাস, সবকিছুর আমলনামা বর্তমান সরকারের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। অতীতে যা হয়েছে, তার বিচার হওয়া এখন সময়ের দাবি। ইনশাআল্লাহ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার আরও কঠোর হবে এবং যারা অতীতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জাতিকে বিব্রত করেছেন, তাদের প্রত্যেকের কাজের যথাযথ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।

প্রতিদিনের কণ্ঠস্বরের পক্ষ থেকে আমাদের প্রত্যাশা—একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে উঠুক, যেখানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ