ঝিকরগাছায় এনামুল হত্যা মামলায় নতুন বিতর্ক স্বাক্ষীর ষড়যন্ত্রে প্রবাসীসহ কয়েকজন কে জড়ানোর অভিযোগ
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ২৫ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
ইনকিয়াদ আহম্মেদ রাফিন
ঝিকরগাছা উপজেলা প্রতিনিধি
যশোরের ঝিকরগাছায় ফারাসাতপুর গ্রামে রাজমিস্ত্রী এনামুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে| নিহতের স্ত্রী রেশমা বেগমের দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হলেও মামলার ৬ থেকে ১১ নম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনার দাবি উঠেছে| মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে একদল ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে নিহত এনামুল ইসলামকে গুরুতর আহত করে| পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়| এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রেশমা বেগম বাদি হয়ে ১১জনের নাম উল্লেখসহ কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা করে ঘটনাস্থল মনিরামপুর থানায় মামলা দায়ের করেন|যার নং-১১, তাং-০৯/০৬/২০২৬ ইং|
মামলার আসামী করা হয়েছে, মৃত ইমামুল সরদারের ছেলে রাকিব ও হুসাইন, মফিজুর রহমানের ছেলে রাব্বি , আফজাল সরদারের ছেলে চঞ্জল, আবুল সরদারের ছেলে সাবিক ও আরিফ, খাইরুল ইসলামের ছেলে মেহেদী, লিটন সরদারের ছেলে সিয়াম, হাবিবুর রহমানের ছেলে ইউনুস, রফিকুল ইসলামের ছেলে মিঠু ও শওকত সরদারের ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাশী রবিউল ইসলাম| এ ব্যাপারে মামলার ৭নং আসামী মেহেদী হাসানের মা তহমিনা খাতুন বলেন, তার ছেলে এই ঘটনার সাথে কোন ভাবেই জড়িত না, তাকে ষড়যন্ত্র করে মামলার ১নং সাক্ষী সাদ্দাম হোসেন বাদি পক্ষকে হাত করে এজাহারে নাম ঢুকিয়েছে|
এামলার ১১নং আসামী রবিউল ইসলামের স্ত্রী রত্না খাতুন বলেন, তার স্মামী ১৮বছর ধরে মালয়েশিয়া প্রবাশী| সে প্রতিবছর কোরবানী দেয়ার জন্য বাড়ি আসে| গত ৯ জুন দুপুর ১২.১৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর থেকে ফ্লাইটে সে মালয়েশিয়ায় চলে যায়| এর আগের রাতে (সন্ধ্যায়) সে বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়| এনামুল হত্যাকান্ড মামলার সাক্ষী সাদ্দাম হোসেনগংদের সাথে তার (বাড়ির রাস্তা) জমাজমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে উক্ত হত্যা মামলায় তার স্মামীকে আসামী করা হয়েছে|
এছাড়া মামলার ৬ থেকে ১১ নং অন্য আসামির স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই| তারা অভিযোগ করেন, মামলার ১নং সাক্ষী সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে জমাজমি সংক্রন্ত পূর্ব শত্রুতার জেরে তাদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে| তাদের ভাষ্য, প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হলে নির্দোষ ব্যক্তিদের নাম বাদ পড়বে| এ বিষয়ে স্থানীয়দের একটি অংশ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলছেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে|
এদিকে, মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবু সাঈদ জানিয়েছেন, বাদির দেয়া এজাহারভুক্ত উল্লিখিত অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে| তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে|
তবে মামলার বাদি (নিহতের স্ত্রী) রেশমা বেগম ও বৃদ্ধ মাতা হালিমা বেগম ইনামুল ইসলাম হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত প্রকৃত খুনিদের ফাঁসি দাবি করেন| জানতে চাইলে মামলার সাক্ষী সাদ্দাম হোসেননের নিজের বিরুদ্ধে ৬থেকে ১১নং আসামীর স্বজনদের করা অভিযোগ অস্বীকার করেন|
উল্লেখ্য, হত্যাকান্ডের শিকার এনামুলের ভাগ্নি রুমির মেয়ে সুমাইয়া খাতুনকে স্কুলে যাওয়া আসার পথে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করার পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ৮জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইফটিজারদের হামলায় রাজমিস্ত্রী এনামুল ইসলাম নিহত হয়|
আপনার মতামত লিখুন :