সিলেটে এম আলী গ্রুপের ‘মাফিয়া’ সাম্রাজ্য: অসহায়দের রক্ত চুষে পলাতক মোহাম্মদ আলীর অন্ধকার রাজত্ব


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:

মুনতাসির বিল্লাহ

বিশেষ প্রতিবেদক, সিলেট।

​সিলেটের আকাশ-বাতাস এখন এক জালিয়াত চক্রের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে। ‘এম আলী গ্রুপ অব কোম্পানিজ’ নামক একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের আড়ালে মোহাম্মদ আলী হোসেন সরকার নামের এক ব্যক্তি গড়ে তুলেছেন এক নৃশংস ‘অন্ধকার সাম্রাজ্য’। চাকরি দেওয়ার নাম করে অসহায় মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদের সর্বস্বান্ত করা, দুই মাস পর মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে বের করে দেওয়া এবং সবশেষে নিঃস্ব পরিবারগুলোর নামে শত শত মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার এক নজিরবিহীন জঘন্য খেলায় মেতেছেন এই স্বৈরাচারের দোসর।

অসহায়দের কাঁধে মামলার বোঝা: এক পৈশাচিক প্রতারণা

​ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, মোহাম্মদ আলী কেবল একজন অবৈধ ব্যবসায়ী নন, তিনি একজন পেশাদার প্রতারক। সিলেটে কর্মসংস্থানহীন শিক্ষিত তরুণদের চাকরির রঙিন স্বপ্ন দেখিয়ে নিজের কোম্পানিতে নিয়োগ দেন তিনি। দুই-তিন মাস খাটিয়ে নেওয়ার পর বেতন না দিয়ে উল্টো তাদের ওপর চুরির দায় চাপানো হয়। এরপর অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে অসহায় ও অসচ্ছল ব্যক্তিদের নামে আদালতে মিথ্যা মামলা ঠুকে দেন তিনি। বর্তমানে অনেক হতদরিদ্র যুবক এই মিথ্যা মামলার জালে আটকা পড়ে আদালতের বারান্দায় কাঁদছেন, অন্যদিকে অপরাধী মোহাম্মদ আলী তার বিলাসবহুল জীবন উপভোগ করছেন।

নিষিদ্ধ পলিথিন ও অবৈধ তামাকের বিষবাষ্প

​এম আলী গ্রুপের আড়ালে মূল ব্যবসা হলো নিষিদ্ধ পলিথিন ও অবৈধ তামাক। সিলেট নগরীর বিভিন্ন গোপন আস্তানায় নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন ও বাজারজাত করে পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এই সিন্ডিকেট প্রধান। রাতের আঁধারে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বাহিনীর বিরুদ্ধে।

সাংবাদিকদের হুমকি ও অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশ

​এই অন্ধকার রাজ্যের খবর সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের প্রকাশ্যেই ঘুষের প্রস্তাব দেন মোহাম্মদ আলী। নীতিবান সাংবাদিকরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তাদের বিরুদ্ধেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন ভুয়া মামলার হুমকি দেন তিনি। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, যখন তিনি সাংবাদিকদের হুমকি দিচ্ছিলেন, তখন কোতোয়ালি থানার কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা এই রক্ষকই এখন ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছে।

স্বৈরাচারের দোসর থেকে ‘পলাতক’ পত্রিকা মালিক

​নিজেকে ‘দৈনিক বাংলাদেশ মিডিয়া’ নামক একটি নামসর্বস্ব পত্রিকার মালিক দাবি করা এই ব্যক্তি বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট ছিলেন। গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি পলাতক থাকলেও তার সাজানো মিথ্যা মামলার কারণে এখনো জেল খাটতে হচ্ছে নিরপরাধ মানুষদের। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন— “একজন পলাতক আসামি কীভাবে এখনো প্রশাসনকে ব্যবহার করে অসহায়দের নামে মামলা দেয়?”

অবিলম্বে গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি

​সিলেটের সর্বস্তরের সচেতন মানুষ ও ভুক্তভোগীরা এখন রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের দাবিগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর:

১. অবিলম্বে গ্রেফতার: পলাতক মোহাম্মদ আলী হোসেন সরকারকে খুঁজে বের করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

২. মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার: নিরপরাধ ও অসহায় যুবকদের নামে দেওয়া প্রতিটি মিথ্যা মামলা অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করতে হবে।

৩. অবৈধ ব্যবসা উচ্ছেদ: সিলেটের নিষিদ্ধ পলিথিন ও অবৈধ তামাকের সকল গুদাম গুঁড়িয়ে দিতে হবে।

৪. সহযোগীদের বিচার: মোহাম্মদ আলীর পা চাটুকার অসাধু পুলিশ সদস্য ও ভাড়াটে গুণ্ডাবাহিনীকেও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।

​প্রশাসনের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে ভুক্তভোগীরা বলেছেন, যদি দ্রুত এই মাফিয়া চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে সিলেটের রাজপথ অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এই বিষধর সাপের বিচার না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ