যশোরে ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
মোঃ শাহিনুর রহমান (শাহিন) যশোর।
যশোর, ১১ এপ্রিল: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে যশোরে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে দেখা গেছে উৎসাহ-উদ্দীপনা।
প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজটি চালু হলে যশোর জেলার পাশাপাশি খুলনা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশের মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বর্তমান চিত্র
বর্তমানে বাংলাদেশ-এ মোট প্রায় ১১০টির বেশি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে:
সরকারি মেডিকেল কলেজ: প্রায় ৩৭টি
বেসরকারি মেডিকেল কলেজ: ৭০টির বেশি
সরকারি বড় হাসপাতালগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল — প্রায় ২,৬০০+ শয্যা
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল — প্রায় ১,৩০০+ শয্যা
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল — প্রায় ১,২০০+ শয্যা
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল — প্রায় ৮০০+ শয্যা
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল — প্রায় ১,০০০+ শয্যা
তবে বাস্তবতায় এসব হাসপাতালের অধিকাংশেই রোগীর চাপ শয্যা সংখ্যার চেয়ে ২–৩ গুণ বেশি।
স্বাস্থ্যখাতের বিদ্যমান সংকট
দেশের অধিকাংশ সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত:
শয্যা সংকট ও অতিরিক্ত রোগীর চাপ
চিকিৎসক ও নার্সের ঘাটতি
আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব
দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তি
ঢাকাকেন্দ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর অতিনির্ভরতা
বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে হয়, যা সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই বড় চাপ সৃষ্টি করে।
যশোর মেডিকেল কলেজের গুরুত্ব
নতুন ৫০০ শয্যার এই মেডিকেল কলেজটি বাস্তবায়িত হলে—
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা সহজলভ্য হবে
১.ঢাকামুখী রোগীর চাপ কমবে
২.জরুরি চিকিৎসা দ্রুত পাওয়া যাবে
৩.স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ বাড়বে
৪.অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রকল্পটি শুধু একটি হাসপাতাল নয়—বরং এটি পুরো অঞ্চলের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি বড় পদক্ষেপ।
প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক তৎপরতা
প্রধান অতিথির আগমনকে কেন্দ্র করে উদ্বোধনস্থল পরিদর্শন করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দ্রুত ও মানসম্মতভাবে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।
এদিকে অনুষ্ঠানকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কাজ করছে।
জনমনে প্রত্যাশা
স্থানীয় জনগণের মধ্যে এ প্রকল্পকে ঘিরে ব্যাপক আশাবাদ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই মেডিকেল কলেজ চালু হলে যশোরসহ পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার মান আমূল পরিবর্তন হবে।
সবমিলিয়ে, যশোরে ৫০০ শয্যার এই মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা দেশের স্বাস্থ্যখাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন :