প্রবাসী এক্সপ্রেস বাসের প্রতারণা ও হয়রানির বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী সুপারভাইজারদের আকুল আবেদন


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ০৩ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:


ক্রাইম নিউজ, দৈনিক প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ঢাকা: 

ঢাকা টু কক্সবাজার রোডে চলাচলকারী দূরপাল্লার পরিবহন ‘প্রবাসী এক্সপ্রেস’ বাসের বিরুদ্ধে জামানতের নামে অর্থ আত্মসাৎ, চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে প্রতারণা এবং স্টাফদের মাদকাসক্তিসহ নানা গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন ভুক্তভোগী সুপারভাইজার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

​⚠️ বিশেষ সতর্কবার্তা (যাত্রী সাধারণের জন্য):

​যাত্রী সাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, প্রবাসী এক্সপ্রেস বাসের ড্রাইভার, হেলপার ও সুপারভাইজারদের একটি বড় অংশ নিয়মিত ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত এবং প্রতিষ্ঠানটির বৈধ কোনো কাগজপত্র বা রুট পারমিট নেই। যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তা ও আইনি ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে সর্বসাধারণকে এই গাড়িতে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।


​মূল অভিযোগসমূহ:

  • ​মাদকাসক্তি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি: প্রবাসী এক্সপ্রেস বাসের সুপারভাইজার, হেলপার এবং ড্রাইভারদের একটি বড় অংশ নিয়মিত ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত থাকে, যা যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
  • ​জামানতের নামে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ: সুপারভাইজার পদে চাকরির জন্য ২০ হাজার টাকা জামানত হিসেবে জমা নেওয়া হলেও পরবর্তীতে তাদের কোনো ডিউটি দেওয়া হয় না। জামানতের টাকা ফেরত চাইতে গেলে উল্টো নানা ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
  • ​সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত ব্যক্তিবর্গ: এই পুরো প্রতারণা চক্রের মূল হোতা হিসেবে ম্যানেজার ইব্রাহিম ও জিএম রুবেলের নাম উঠে এসেছে। তাদের সাথে কিছু প্রতারক সুপারভাইজার যোগসাজশ করে নতুন চাকরিপ্রত্যাশীদের ফাঁদে ফেলে টাকা সংগ্রহ করে।
  • ​অবৈধভাবে বাস চলাচল: ঢাকা টু কক্সবাজার রুটে প্রবাসী এক্সপ্রেসের মোট ছয়টি বাস চলাচল করলেও প্রতিষ্ঠানটির কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন মহলে তদবির, সুপারিশ এবং ঘুষের বিনিময়ে অবৈধভাবে এই গাড়িগুলো চালানো হচ্ছে।

​ভুক্তভোগী সুপারভাইজারদের বিবরণ:

​১. মোঃ সাহাবউদ্দিন: ২০ হাজার টাকা জামানত দেওয়ার পর তাকে কোনো ডিউটি দেওয়া হয়নি। টাকা ফেরত চাইতে গেলে ম্যানেজার ইব্রাহিম ও তার দলবল তার কাছ থেকে আরও ১০ হাজার টাকা দাবি করে এবং জীবননাশের হুমকি দেয়।

২. মোঃ রাসেল: ১০ হাজার টাকা জমা দেওয়ার পর থেকেই চাকরির আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও তাকে কোনো ডিউটি বা টাকা কোনটিই দেওয়া হচ্ছে না।

৩. মোহাম্মদ ইয়াসিন: ২০ হাজার টাকা জমা দেওয়ার পর তাকে ডিউটি না দিয়ে প্রতারক চক্র পুরো টাকা আত্মসাৎ করে নেয়।

৪. মোঃ শাহিন ইসলাম: জামানতের ২০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রবাসী এক্সপ্রেসের অফিসে ঘুরেও তিনি এখনো টাকা বা চাকরি পাননি।

৫. মোঃ ইউসুফ শেখ: ২০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও তাকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।

​সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি:

​সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের সাথে চলা এই অভিনব প্রতারণা বন্ধ করতে ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারের কাছে নিম্নলিখিত দাবি জানানো হয়েছে:

  • ​ম্যানেজার ইব্রাহিম, জিএম রুবেলসহ এই প্রতারণা চক্রের সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর বিচার নিশ্চিত করা।
  • ​প্রবাসী এক্সপ্রেস বাসের বৈধ কাগজপত্র ও রুট পারমিট খতিয়ে দেখা এবং অবৈধভাবে গাড়ি চললে তা সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা।
  • ​ভুক্তভোগী সুপারভাইজারদের জামানত হিসেবে নেওয়া সমুদয় অর্থ অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ