এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম:
পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল, কিন্তু ফিরলেন লাশ হয়ে। চট্টগ্রামে পতেঙ্গা–লালখান বাজার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে বেপরোয়া গতির প্রাইভেট কার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সামিয়া জাহান তানিশা (২২) নামের এক কলেজছাত্রী। তবে এই মৃত্যুকে স্রেফ ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে মানতে নারাজ পরিবার; তাদের দাবি এটি একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে নগরের বারিক বিল্ডিং সংলগ্ন এক্সপ্রেসওয়ে এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। সামিয়া হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা শেষে বন্ধু সাইদুল আলমের সাথে পতেঙ্গা এলাকায় বেড়াতে গিয়েছিলেন সামিয়া। ফেরার পথে সাইদুল আলমের চালিত (চট্টমেট্রো-গ-১১-৪০৩৪) প্রাইভেট কারটি অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক্সপ্রেসওয়ের রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং সিটে বসা সামিয়া ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সামিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সামিয়া নগরের রাহাত্তারপুল এলাকার শাহ আমানত হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আবু তালেব পাটোয়ারীর মেয়ে। তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে।
সামিয়ার মামা গিয়াস উদ্দিন শিকদার জানান, মাত্র পাঁচদিন আগে ৪ এপ্রিল সামিয়ার জন্মদিন পালন করা হয়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিল তার বড় ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষে পরিবারে উৎসবের আমেজ ছিল। কিন্তু এক নিমেষেই সব শেষ হয়ে গেল। পরিবারের অভিযোগ, চালক সাইদুল আলম সামিয়াকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে গাড়ি থেকে ফেলে হত্যা করেছে।
বন্দর থানার এসআই এরশাদ মিয়া জানান, ঘাতক চালক সাইদুল আলম বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা এবং কাতার প্রবাসী। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চট্টগ্রামের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভারগুলোতে গতির কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ফিটনেসবিহীন বাস থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত গাড়িগুলো সেখানে মরণনেশায় মেতে ওঠে। ফ্লাইওভারের উপরে ট্রাফিক পুলিশের নজরদারি না থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। অবিলম্বে এক্সপ্রেসওয়েতে গতি নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।
আপনার মতামত লিখুন :