আইটি ডেস্ক | অনলাইন ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়তেই নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে ইরানের কথিত ‘গোপন অস্ত্র’। সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামরিক বিশ্লেষকদের বরাতে দাবি করা হচ্ছে, ইরান এমন এক প্রযুক্তি বা সক্ষমতা অর্জন করেছে যা দিয়ে মুহূর্তেই বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দিতে পারে। এই খবরটি যেমন চাঞ্চল্য তৈরি করেছে, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে ব্যাপক উদ্বেগ।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের ৯৫ শতাংশেরও বেশি ইন্টারনেট ডেটা আদান-প্রদান হয় সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে বিছানো সাবমেরিন কেবল (Submarine Cable) এর মাধ্যমে। লোহিত সাগর এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এই কেবলগুলোর একটি বড় অংশ অবস্থিত।
অভিযোগ উঠেছে, ইরানের কাছে এমন উন্নত ‘আন্ডারওয়াটার ড্রোন’ বা বিশেষ সাবমেরিন প্রযুক্তি রয়েছে যা দিয়ে সমুদ্রের কয়েক হাজার ফুট নিচে থাকা এই কেবলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত করা সম্ভব। যদি প্রধান এই সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করা হয়, তবে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়তে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়াররা বলছেন, বিষয়টি যতটা না কারিগরি, তার চেয়ে বেশি মনস্তাত্ত্বিক। তাদের মতে:
অধিকাংশ প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এটি ইরানের পক্ষ থেকে একটি 'কৌশলগত হুমকি' বা 'সাইবার ডিফেন্স' কৌশলের অংশ। সরাসরি যুদ্ধে যাওয়ার চেয়ে এই ধরনের ডিজিটাল ব্ল্যাকআউটের হুমকি দিয়ে ইরান বিশ্বশক্তিগুলোকে চাপে রাখতে চায়।
তবে বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার মতোও নয়। লোহিত সাগরে সাম্প্রতিক অস্থিরতা এবং হুথি বিদ্রোহীদের তৎপরতা প্রমাণ করেছে যে, সমুদ্রের তলদেশের অবকাঠামো এখন যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের ‘গোপন অস্ত্র’ নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা বাস্তব সক্ষমতার চেয়ে বিশ্বকে একটি কড়া বার্তা দেওয়ার কৌশল হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। প্রযুক্তিগতভাবে পুরো পৃথিবী একদিনে অফলাইন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও, এই আলোচনা বৈশ্বিক তথ্য নিরাপত্তা এবং সাবমেরিন কেবলের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :