সুনামগঞ্জে ইউপি সদস্যা ও পুলিশের উপর হামলা
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ০৩ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
সুরমা ইউপির আসবাবপত্র হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে বরখাস্ত চেয়ারম্যানের ভাতিজাসহ সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের আসবাবপত্র হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্যা ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩ নভেম্বর) বিকেল ২টার দিকে সুরমা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইব্রাহিমপুর গ্রামস্থ অস্থায়ী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন রেজার ব্যক্তিগত হেফাজতে থাকা ইউনিয়ন পরিষদের আসবাবপত্র বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খুরশিদ মিয়ার কাছে হস্তান্তরের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা জেরীন নির্দেশ দেন। কিন্তু আমির হোসেন রেজা সময়ক্ষেপণের পর আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে লন্ডনে পালিয়ে যান।
এরপর ইউএনও’র নির্দেশে এসআই রাশেদের নেতৃত্বে সদর মডেল থানার একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আসবাবপত্রের তালিকা প্রস্তুত করছিল। এসময় বরখাস্ত চেয়ারম্যানের ভাতিজা তাজুয়ার আফজাল শিহাব একদল সন্ত্রাসী নিয়ে পুলিশ দল ও সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যা মোছাঃ তানজিনা বেগমের উপর হামলা চালায় এবং তার স্মার্টফোন কেড়ে নিয়ে ভাঙচুর করে।
পুলিশ শিহাবকে আটক করে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে বিদেশে থাকা আমির হোসেন রেজা মোবাইল ফোনে নির্দেশ দিয়ে তার গোত্রীয় লোকজনকে পুলিশ দলের উপর হামলা চালানোর আহ্বান জানান। খবর পেয়ে ওসি (তদন্ত) আরিফ উল্লাহ, এসআই মাহমুদুল ও এসআই অভিজিৎসহ অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
এসময় শিহাব প্রকাশ্যে বলে, “আমার বোনজামাই এএসপি, আমি র্যাবকে মেরেছি, পুলিশ কিছুই করতে পারবে না”—বলে ইব্রাহিমপুর জামে মসজিদের সামনে লোকজন জড়ো করে পুলিশের কাজে বাধা দেয়। পরে পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালায়, কিন্তু সে পালিয়ে যায়।
সাক্ষীদের অভিযোগ, শিহাবের বোন (একজন এএসপির স্ত্রী) তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে ভাইকে পুলিশের হাত থেকে বাঁচিয়ে দেয় এবং মোবাইল ফোনে ওসি তদন্তের সঙ্গে কথা বলেন।
এদিকে, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়—পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় সাবেক চেয়ারম্যানের হেফাজতে থাকা আলমারি, চেয়ার-টেবিল, ফ্যান, কম্পিউটার, পতাকা, প্রিন্টারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র উদ্ধার করে হালুয়ারঘাট বাজারস্থ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে এখনো অনেক মূল্যবান সামগ্রী আমির হোসেন রেজার দখলে রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খুরশিদ মিয়া বলেন, “বরখাস্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি খাসজমির মাটি চুরি ও বিক্রির ঘটনায় ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে মামলা রয়েছে, যার অভিযোগপত্র ইতোমধ্যে আদালতে গৃহীত হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “আমার ও পরিষদের সদস্যদের উপর বারবার হামলা চালাচ্ছে সন্ত্রাসী শিহাব। কিন্তু এএসপির শ্যালক হওয়ায় আমরা এখনো ন্যায়বিচার পাইনি।”
এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ওসি মোঃ আবুল কালাম বলেন,
> “পরিষদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে সন্ত্রাসী যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি │ সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫
আপনার মতামত লিখুন :