জামায়াত ও চরমোনাই: ঐক্যের পথে অনৈক্য কি সাধারণ মানুষের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
জামায়াত ও চরমোনাই: ঐক্যের পথে অনৈক্য কি সাধারণ মানুষের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে
_______________________________
বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ ‘পরিবর্তনের বিকল্প’ হিসেবে ইসলামী শক্তিগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই)—এই দুই দলের বিশাল কর্মী বাহিনী ও সাংগঠনিক শক্তি সাধারণ জনগণের মধ্যে এক ধরনের প্রত্যাশা তৈরি করেছিল যে, এবার হয়তো তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি তৃতীয় ধারার সূচনা করবে। কিন্তু বাস্তবে এই দুই দলের মধ্যে বড় ধরনের কোনো সমঝোতা না হওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থায় চিড় ধরছে।
বিশাল ভোটব্যাংক বনাম অনৈক্য
পরিসংখ্যান ও মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে, জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন যদি একক প্ল্যাটফর্মে আসে, তবে তারা ভোটের রাজনীতিতে যেকোনো বড় দলের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মসূচি ও বক্তব্যে দেখা গেছে, দল দুটি একই লক্ষ্যে কাজ করার কথা বললেও পর্দার আড়ালে তাদের দূরত্ব এখনো ঘোচেনি। এই দূরত্ব সাধারণ ভোটারদের মনে এই বার্তাই দিচ্ছে যে, আদর্শের চেয়ে দলীয় শ্রেষ্ঠত্ব এখানে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২. নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও অতীত তিক্ততা
সাধারণ মানুষের হতাশার একটি বড় কারণ হলো দল দুটির মধ্যে থাকা মনস্তাত্ত্বিক লড়াই।
নেতৃত্বের প্রশ্ন: কোন দলের নেতৃত্বে ঐক্য হবে বা আসন বণ্টন কেমন হবে—এই নিয়ে দুই দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এখনো কোনো ফলপ্রসূ আলোচনা দৃশ্যমান নয়।
অতীতে এই দুই দলের মধ্যে যে রাজনৈতিক ও আদর্শিক মতভেদ ছিল, তা কাটিয়ে ওঠার কার্যকর কোনো উদ্যোগ কর্মী ও সমর্থকদের আশ্বস্ত করতে পারছে না।
সাধারণ ভোটার এবং তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ মনে করে, ইসলামী দলগুলোর ক্ষমতার আসার পথ কেবল তখনই সুগম হবে যখন তারা ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠতে পারবে। যখনই দেখা যায় জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন পৃথকভাবে শক্তি প্রদর্শন করছে, তখন সাধারণ মানুষ মনে করে এতে কেবল জনসমর্থনই ভাগ হচ্ছে না, বরং মূল রাজনৈতিক লক্ষ্যে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
সচেতন মহলের মতে, "যদি বড় দুই ইসলামী শক্তি একে অপরের পরিপূরক হতে না পারে, তবে তারা সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গায় দীর্ঘস্থায়ী আসন নিতে পারবে না।"
সমঝোতা না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ধারণা জন্মাচ্ছে যে
ইসলামী দলগুলো রাষ্ট্র পরিচালনার চেয়ে নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোতেই বেশি আগ্রহী।
নির্বাচনের সময় ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার ফলে শেষ পর্যন্ত তারা কাঙ্ক্ষিত আসন লাভ করতে ব্যর্থ হবে এমনটাই মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।
জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি শক্তিশালী ‘ইসলামিক ব্লক’ তৈরি না হওয়ায় সাধারণ মানুষ আবার পুরনো রাজনৈতিক ধারার দিকেই ফিরে যেতে পারেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ—উভয় দলই এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।
সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরে পেতে হলে কেবল বক্তৃতা-বিবৃতিতে নয়, বরং মাঠপর্যায়ে একটি দৃশ্যমান ঐক্য বা নূন্যতম নির্বাচনী সমঝোতা সময়ের দাবি।
অন্যথায়, পরিবর্তনের যে স্বপ্ন সাধারণ মানুষ দেখছে, তা অনৈক্যের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যেতে পারে।
শফিকুল বারী বিশেষ প্রতিবেদক
আপনার মতামত লিখুন :