আজ ভাষা শহীদ আব্দুস সালামের ১০০তম জন্মবার্ষিকী
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ২৬ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
আজ ভাষা শহীদ আব্দুস সালামের ১০০তম জন্মবার্ষিকী: বাংলা ভাষার জন্য আত্মত্যাগের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়
________________________
আজ মহান ভাষা আন্দোলনের বীর সৈনিক শহীদ আব্দুস সালামের ১০০তম জন্মবার্ষিকী। এই দিনটি আমাদের ইতিহাসে গভীরভাবে স্মরণ করিয়ে দেয় এক মহান আত্মত্যাগের কথা, যে আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি আমাদের প্রাণের ভাষা—বাংলা। আব্দুস সালাম ছিলেন সেই সাহসী তরুণদের একজন, যিনি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রামে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
প্রারম্ভিক জীবন
ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৫ সালে, ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার লক্ষণপুর গ্রামে। তিনি ছিলেন একজন সাধারণ ঘরের সন্তান, কিন্তু তাঁর হৃদয়ে ছিল অসাধারণ দেশপ্রেম ও ভাষার প্রতি গভীর ভালোবাসা। কৈশোর থেকেই সমাজ ও রাজনীতি বিষয়ে সচেতন ছিলেন এবং ছাত্রজীবনে প্রগতিশীল চিন্তাধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন।
ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে যখন পুরো পূর্ববাংলা উত্তাল, তখন আব্দুস সালাম ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় আন্দোলনরত মিছিলে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ১৪৪ ধারা ভেঙে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল। সেই সময় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন আব্দুস সালাম।
শহীদ হওয়ার গৌরব
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার পর ১৯৫২ সালের ৭ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সরাসরি ২১ ফেব্রুয়ারি নিহত না হলেও, ভাষার মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনে আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করায় তাঁকে ভাষা শহীদ হিসেবে জাতির পক্ষ থেকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মাননা
ভাষা শহীদ আব্দুস সালামের আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ—
তাঁকে ভাষা শহীদ হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়
তাঁর নামে ঢাকায় “সালাম বরকত রফিক জব্বার মিলনায়তন” প্রতিষ্ঠিত হয়
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনায় তাঁর নামকরণ করা হয়েছে
প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়
১০০তম জন্মবার্ষিকীর তাৎপর্য
২০২৫ সালে তাঁর ১০০তম জন্মবার্ষিকী আমাদের জন্য শুধুই একটি স্মরণ দিবস নয়, বরং এটি নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের চেতনা পৌঁছে দেওয়ার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। এই উপলক্ষে দেশব্যাপী আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও স্মৃতিচারণ সভার আয়োজন করা হয়।
আজকের তরুণ সমাজের দায়িত্ব হলো—
✔ বাংলার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা
✔ ভাষা শহীদদের আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করা
✔ মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সর্বদা সচেতন থাকা
শহীদ আব্দুস সালামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা
শহীদ আব্দুস সালামের জীবন আমাদের শেখায়, ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, ভাষাই একটি জাতির আত্মপরিচয়। তাঁর রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি আমাদের ভাষার অধিকার, আমাদের জাতীয় অহংকার।
এই মহান দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি ভাষা শহীদ আব্দুস সালামকে।
তাঁর আত্মা শান্তিতে থাকুক।
আপনার মতামত লিখুন :