ডক্টরস কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধের ষড়যন্ত্র
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ০১ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
উলিপুরের এক আলো নিভিয়ে দেওয়ার চেষ্টা — তদন্তের দাবিতে জনমত গঠন
কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত “ডক্টরস কমিউনিটি ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টার”—রাজারহাট, উলিপুর ও চিলমারী উপজেলার মানুষের কাছে বহু বছরের এক আস্থার নাম। নামমাত্র ফিতে চিকিৎসা সেবা এবং অসহায় রোগীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা—এই মানবিক উদ্যোগই প্রতিষ্ঠানটিকে করেছে ব্যতিক্রমী।
কিন্তু সম্প্রতি এই মানবসেবামূলক ক্লিনিকটি ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক ও ষড়যন্ত্রের ঘূর্ণাবর্ত। গত ২০ অক্টোবর প্রসব বেদনা নিয়ে মিথী আক্তার নামে এক গর্ভবতী নারী ভর্তি হন ক্লিনিকটিতে। দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে দেখেন, শিশুর হার্টবিট অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত—পরিস্থিতি জটিল। তারা রোগীর ও নবজাতকের নিরাপত্তার স্বার্থে সিজারিয়ান অপারেশনের পরামর্শ দেন।
তবে স্বজনরা সিজারে রাজি না হয়ে স্বাভাবিক প্রসবের অনুরোধ করেন। চিকিৎসকেরা সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে স্বাভাবিক প্রসব করান। বিকেল ছয়টার দিকে নবজাতকের জন্ম হয়, কিন্তু জন্মের পরপরই শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। চিকিৎসকেরা তৎক্ষণাৎ অক্সিজেন ও ওষুধ প্রয়োগ করে শিশুটিকে রংপুর মেডিকেলে পাঠান—কিন্তু সেখানে পৌঁছে নবজাতকটি মারা যায়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু ব্যক্তি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে “নবজাতক হত্যার” অভিযোগ তোলে এবং মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দেয়। অথচ থানায় অভিযোগ হওয়ার পর উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতাও হয় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ক্লিনিক বন্ধের দাবি উঠলেও চিকিৎসকরা বলছেন, এটি একটি চিকিৎসাগত জটিলতা, হত্যা নয়। গাইনী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন—
> “যখন শিশুর হার্টবিট অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তখন সিজার ছাড়া বিকল্প থাকে না। রোগীর স্বজনরা রাজি না হওয়ায় আমরা তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করেছি। নবজাতকের মৃত্যু আমাদের জন্যও গভীর কষ্টের।”
৩০ অক্টোবর বিকেলে ক্লিনিক প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলনে পরিচালনা পর্ষদ অভিযোগ তোলে, কিছু ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে ডক্টরস ক্লিনিককে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।
পরিচালনা পর্ষদের পক্ষে ডা. নজরুল ইসলাম বলেন—
> “আমরা মানবসেবাকে দায়িত্ব হিসেবে দেখি, ব্যবসা নয়। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে ক্লিনিক বন্ধের দাবি অন্যায়। তদন্ত হোক, সত্য প্রকাশ পাক—তবেই ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচিত হবে।”
এদিকে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ইতোমধ্যে ঘটনাটির তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন। তারা ক্লিনিকের চিকিৎসা প্রক্রিয়া, নথিপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন দেবে।
স্থানীয় জনগণ বলছেন, সত্যিকারের চিকিৎসা দুর্ঘটনাকে ষড়যন্ত্রে রূপ দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ হওয়া উচিত। উলিপুরের ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন—
> “ডক্টরস ক্লিনিক গরিবদের বিনা পয়সায় চিকিৎসা দেয়। একটা দুর্ঘটনার দায়ে এত বড় প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা অন্যায়।”
আরেক রোগী রহিমা বেগম বলেন—
> “আমার সন্তানও এখানেই জন্মেছে। তারা কখনও টাকার জন্য চাপ দেয়নি। আল্লাহর ইচ্ছায় শিশুটি মারা গেলে সেটা হত্যাকাণ্ড হয় কীভাবে?”
উলিপুরবাসীর বিশ্বাস—ডক্টরস কমিউনিটি ক্লিনিক শুধু একটি চিকিৎসা কেন্দ্র নয়, এটি মানবিক সেবার আশ্রয়স্থল।
একটি নবজাতকের মৃত্যু নিঃসন্দেহে বেদনাদায়ক, কিন্তু সেই শোকের আড়ালে যদি ষড়যন্ত্র লুকিয়ে থাকে—তবে সেটিই হবে আরও ভয়াবহ।
উলিপুর প্রতিনিধি
আপনার মতামত লিখুন :