বাগেরহাটে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে কেমিক্যালযুক্ত পানির পাম্প
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ০৪ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলায় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে অসংখ্য পানির পাম্প। নিয়ম অনুযায়ী এসব পাম্প পরিচালনায় সরকারি লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রয়োজন হলেও অধিকাংশ পাম্পেরই নেই কোনো বৈধ কাগজপত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব পাম্প সরাসরি টিউবওয়েল লাইনের সাথে পাইপ সংযোগ দিয়ে বোতলজাত পানি তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে বাজারজাত করছে। দিনের বেলায় মালিকরা অন্য পেশায় নিয়োজিত থাকলেও রাতের আঁধারে এই অবৈধ পানি ব্যবসা চলে নিরবচ্ছিন্নভাবে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অনেক পাম্পে ব্যবহৃত হচ্ছে কেমিক্যাল যা পানির স্বচ্ছতা বাড়াতে সাহায্য করলেও অতিরিক্ত মাত্রায় এই কেমিক্যাল মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুদের ‘হার্ট ব্লক’সহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এমনকি সাধারণ মানুষও না জেনেই এসব পানি পান করে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদেই এসব অবৈধ ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়েই এরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
রামপালের বিভিন্ন এলাকায় বেনামে গড়ে ওঠা এসব পাম্পের মালিকদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে কেমিক্যালযুক্ত পানি ব্যবহারে ভবিষ্যতে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়বে পুরো এলাকা।
এ বিষয়ে এক পানির পাম্প মালিকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি দাবি করেন, “আমার ব্যবসা এক সচিবের অনুমতিতে চলছে।” তবে তাঁর এই বক্তব্যের কোনো সরকারি প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পিরোজপুরের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ তার আত্মীয়-স্বজনদের প্রভাব খাটিয়ে রামপালে দ্বিতীয় স্ত্রীর মাধ্যমে এই অবৈধ পানি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন,
> “দ্রুত এসব কেমিক্যালযুক্ত পানির পাম্প বন্ধ না করা হলে আমরা সবাই ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হতে পারি।”
তাদের দাবি, প্রশাসন যেন অবিলম্বে অভিযান চালিয়ে এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।
আপনার মতামত লিখুন :