নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলা সাহিত্য ও সমকালীন সমাজচিন্তার জগতে কবি, কলামিস্ট, প্রাবন্ধিক ও রাষ্ট্রচিন্তক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অথই নূরুল আমিন। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে শিশুতোষ রূপকথা—লেখালেখির প্রায় প্রতিটি শাখায় তাঁর সাবলীল বিচরণ রয়েছে। শুধু সাহিত্যসাধনা নয়, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাদান, পাঠাগার আন্দোলন এবং সমাজ সংস্কারমূলক নানা উদ্যোগে সম্পৃক্ত থেকে তিনি এক বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
জন্ম ও পারিবারিক শিকড়
১৯৬৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার ছয়গাঁও গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত খান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন অথই নূরুল আমিন। তাঁর পিতার নাম মো. আব্দুল হক খান এবং মায়ের নাম বেগম নুরজাহান তালুকদার। পৈতৃক নিবাস নেত্রকোনায় হলেও শৈশব থেকেই তাঁর জীবনযাত্রার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ঢাকা। বর্তমানে তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় বসবাস করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চার ছেলে ও এক মেয়ের জনক।
সাহিত্যজীবনের পরিধি ও বহুমুখী লেখালেখি
নব্বইয়ের দশক থেকে লেখালেখি শুরু করে অদ্যাবধি দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, অনলাইন পোর্টাল ও সাময়িকীতে নিয়মিত লিখে চলেছেন তিনি। মানবতা, দেশপ্রেম, প্রান্তিক মানুষের জীবন সংগ্রাম, সামাজিক বৈষম্য এবং রাষ্ট্র পরিচালনার নানাদিক তাঁর লেখার মূল উপজীব্য। শিশু-কেশোরদের নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে ‘অনূআর ঝুলি’ নামে রূপকথার গল্পের ধারাবাহিক রচনা করেছেন তিনি।
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ ‘কৃষক বাংলাদেশের প্রাণ’, ‘সোনালি স্বপ্ন’, উপন্যাস ও গল্পগ্রন্থ ‘ঘর সংসার’, ‘৫২ বছরে ৫৩ গল্প’, এবং শিশুতোষ গ্রন্থ ‘আলোকিত শিশু চাই’। এছাড়া রাষ্ট্রচিন্তা ও সমাজ সংস্কারমূলক গ্রন্থের মধ্যে ‘আমার যুদ্ধ কলমে’, ‘সংলাপ ও রাষ্ট্র সংস্কার’, ‘রাষ্ট্র সংস্কার’ (১ম, ২য় ও ৩য় খণ্ড) এবং ‘প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
মানবতার টানে ‘জীবনবার্তা বিদ্যালয়’
অথই নূরুল আমিনের জীবনের অন্যতম প্রশংসনীয় উদ্যোগ হলো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা। ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়নে ‘জীবনবার্তা বিদ্যালয়’ পরিচালনার মাধ্যমে তিনি প্রায় ১৯ হাজার চারশ শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ করে দেন। এর পাশাপাশি ‘ভূমিহীন বিদ্যালয়’ এবং ‘কলম কলি অক্ষর দান কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন।
পাঠাগার আন্দোলন ও বই উপহার
জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে দেশের দুই শতাধিক পাঠাগারে সৌজন্য হিসেবে বই উপহার দিয়েছেন এই লেখক। জ্ঞানচর্চায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন মহলে তিনি ‘পাঠাগার বন্ধু’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তাঁর নিজের বাসভবনেও ‘কবি বাড়ি’ নামে একটি স্মৃতি পাঠাগার রয়েছে।
সম্পাদক ও সংগঠক ভূমিকা
লেখালেখির পাশাপাশি ‘সমবায় কণ্ঠ’, ‘জীবনবার্তা পত্রিকা’ ও *‘সাহিত্য ভুবন’*সহ বেশ কয়েকটি প্রকাশনার সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সাহিত্য ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। সাহিত্য ও সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ‘দৈনিক বাংলার ডাক পত্রিকা পুরস্কার’, ‘সাহিত্য ভুবন পুরস্কার’ এবং *‘আলো মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’*সহ বহু সম্মাননা অর্জন করেছেন।
সাহিত্যের আলোয় সমাজ পরিবর্তন এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ব্রত নিয়ে কবি অথই নূরুল আমিন তাঁর সৃষ্টিশীল পথচলা অব্যাহত রেখেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :