তহসিল অফিসে অনিয়ম–অভিযোগ: রামুর ধেচুয়াপালংয়ে ঘুষ, হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহার


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ০২ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:


ভূমি রেকর্ড সংশোধন ও উত্তরাধিকার সনদে অনিয়ম–প্রতারনার অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ দাবি স্থানীয়দের।


রামু উপজেলার ধেচুয়াপালং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের জামুয়াপালং মৌজায় তহসিল অফিসের মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত কাজে অনিয়ম, ঘুষ ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারি দায়িত্বের অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে তীব্র অসন্তোষ ও প্রশাসনিক তদন্তের দাবি উঠেছে।

অভিযোগের সূত্রপাত

ভুক্তভোগী রশিদ আহমদ অভিযোগ করেন, তার নামীয় খতিয়ান ও জমির রেকর্ড সংশোধনের আবেদনের পর তহসিল অফিসের কিছু কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিবেদন বিলম্বিত ও বিকৃত করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তহসিলদার সলিম উল্লাহ এবং কানুনগো মাহবুবুর রহমান যৌথভাবে সংশোধন কাজে ঘুষ দাবি করেছেন এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ না দেওয়ায় প্রতিবেদনটি জটিল আকার ধারণ করেছে।

তদন্তে তথ্য গোপনের অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ সংক্রান্ত একটি প্রশাসনিক তদন্ত শুরু হলেও প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখা হয়। তদন্তে উপস্থিত কর্মকর্তারা অভিযোগের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া মূল কাগজপত্র ও সাক্ষ্য উপেক্ষা করে পক্ষপাতদুষ্টভাবে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।
অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কানুনগো মাহবুবুর রহমান পূর্বের একটি মামলায়ও অনুরূপ ঘুষ ও প্রতারণার অভিযোগে বদলি হয়েছিলেন।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের বক্তব্য

রশিদ আহমদ বলেন, “সরকারি অফিসে কাজ করাতে এখন আর ন্যায়বিচার পাওয়া যায় না। টাকা না দিলে কাজ হয় না। তহসিল অফিসের কিছু কর্মকর্তা মানুষকে ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে রাখছেন।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ভূমি সংক্রান্ত কাজে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন তহসিল অফিসে। অভিযোগ জমা দিলেও অধিকাংশ সময় কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের অবস্থান

অভিযোগ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তহসিলদার সলিম উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, “সব কাজ নিয়ম অনুযায়ী করা হয়েছে, কোনো প্রকার অনিয়মের প্রশ্নই আসে না।”
অন্যদিকে কানুনগো মাহবুবুর রহমান মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে অফিসের একাধিক সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে।

বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ

সরকারি ভূমি অফিসে জনগণের সরাসরি সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতা, ফাইল বিলম্ব, ঘুষ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ নতুন নয়। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এসব অনিয়ম রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উদ্যোগ প্রয়োজন।


ধেচুয়াপালং ইউনিয়নের এই ঘটনাটি তহসিল অফিসের সার্বিক অনিয়ম ও জনদুর্ভোগের একটি প্রতিচ্ছবি। স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


রামু (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ