নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ০৪ নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:


মোঃ আশরাফুল হক বাবু
নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের খাবার ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ, এমএসআর সামগ্রী, রোগীদের পথ্য, কাপড় ধোলাই, কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী, মনিহারি পণ্য, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সেবা ক্রয়ের দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদীর।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভরসা নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবার মান, পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ বিরাজ করছে এলাকাবাসীর মধ্যে। অভিযোগ রয়েছে, জরুরি সময়ে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এতে রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে। এ ছাড়া হাসপাতাল কম্পাউন্ডের ভেতরে অনুমোদনহীন স্থাপনা নির্মাণ করে একাধিক পরিবারের বসবাসের অভিযোগও উঠেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বাদল শেখ নামের এক ব্যক্তি বলেন, “হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকে। এসব দেখার যেন কেউ নেই। নামেই সরকারি হাসপাতাল, কিন্তু মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ অনেক চিকিৎসক বেসরকারি ক্লিনিকে প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ

অন্যদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর জন্য বিভিন্ন মালামাল ও সেবা ক্রয়কে কেন্দ্র করে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয়ভাবে এমএসআর সামগ্রী, রোগীদের পথ্য, ময়লা কাপড় ধোলাই, কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী, মনিহারি পণ্য, আসবাবপত্র এবং বিভিন্ন সেবা ক্রয়ের লক্ষ্যে বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (এপিপি) বাস্তবায়নের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদীর।

কমিটিতে তিনি নিজে সভাপতি, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সহকারী অধ্যাপক, ইনসিটু) ডা. আব্দুল্লাহ আল মূতী সদস্য এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ফরহাদ আলী সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এ সংক্রান্ত দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে ৪ অক্টোবর বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে দরপত্র ক্রয় ও জমা দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়। পরদিন ৫ অক্টোবর বিকেল ১টায় দরপত্র খোলার সময় নির্ধারিত ছিল।

পরবর্তী সময়ে ছয়টি গ্রুপের দরপত্র মূল্যায়ন শেষে মেসার্স সাইফুল ট্রেডার্সকে তিনটি, মেসার্স সরকার এন্টারপ্রাইজকে দুটি এবং মেসার্স লাকি ট্রেডার্সকে একটি গ্রুপের কাজের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদনের সুপারিশ করে নির্বাচন ও স্পেসিফিকেশন কমিটি। ওই সুপারিশের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান তিনটিকে ছয়টি গ্রুপের মালামাল ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ

দরপত্রে অংশ নিতে ব্যর্থ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোস্তফা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী গোলাম মওলা মোস্তফা এ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, অন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে দরপত্রে অংশ নিতে না পারে, সে জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তাঁর পছন্দমতো বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দেন। শুধু তাই নয়, পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে হাসপাতালের ওয়েবসাইটের সার্ভার ডাউন করে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ফলে অনেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে তাঁর দাবি।

অভিযোগ অস্বীকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তার

এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদীর বলেন, “বিধিমালা অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ নেই।”

হাসপাতাল চত্বরে স্থাপনা নির্মাণ ও বসবাসের বিষয়ে তিনি বলেন, সেখানে মসজিদের ইমাম বসবাস করেন। কিছুদিনের মধ্যেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ