ক্রিপ্টোকারেন্সি নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:


নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা যেকোনো ধরনের ভার্চুয়াল মুদ্রার লেনদেন, কেনাবেচা, বিনিময় ও স্থানান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা দেওয়ারও কোনো সুযোগ নেই।

​সম্প্রতি জারি করা এক নতুন প্রজ্ঞাপনে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাব বা কার্ডের মাধ্যমে ক্রিপ্টোকারেন্সির যেকোনো ধরনের লেনদেন কঠোরভাবে বন্ধ রাখতে নজরদারি জোরদার করতে বলা হয়েছে।


​প্রজ্ঞাপনের মূল বিষয়সমূহ:

  • ​নিষিদ্ধ কার্যক্রম: ক্রিপ্টোকারেন্সির কেনাবেচা, বিনিময়, লেনদেন এবং এক হিসাব বা প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্যটিতে স্থানান্তর পুরোপুরি নিষিদ্ধ।
  • ​সহযোগিতায় নিষেধাজ্ঞা: কোনো ব্যক্তি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ভার্চুয়াল মুদ্রা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে কোনো ধরনের সহায়তা দিতে পারবে না।
  • ​ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নজরদারি: বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট ট্রানজ্যাকশন আরও গভীরভাবে মনিটরিং করতে বলা হয়েছে, যাতে ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত কোনো অর্থ লেনদেন হতে না পারে।
  • ​কার্যকারিতা: বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনা প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে আগামী এক বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

​কেন এই কড়াকড়ি?

​অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন যে, ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো বিকেন্দ্রীকৃত ডিজিটাল মুদ্রার নির্দিষ্ট কোনো আইনি ভিত্তি বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ না থাকায় এর মাধ্যমে অর্থ পাচার, হুন্ডি এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের বড় ধরনের ঝুঁকি থাকে। এছাড়া এসব মুদ্রার মূল্য অত্যন্ত অস্থিতিশীল হওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। এই সার্বিক ঝুঁকি এড়াতেই বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

​কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নিষেধাজ্ঞা এবং কড়া নজরদারির ফলে দেশের আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হবে এবং সাধারণ মানুষ অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ থেকে সুরক্ষিত থাকবে। প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অমান্যকারী ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ