আজমপুর (উত্তরা), ঢাকা:
হাতে তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) কর্মীদের বেতন নূন্যতম ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর উত্তরায় বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন দুটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। আজ সকালে উত্তরা আজমপুর এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকরা এ আন্দোলন শুরু করেন। এর ফলে টানা প্রায় ২ ঘণ্টা মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনাস্থলের চিত্র ও সংঘর্ষ:
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে আন্দোলনকারী শ্রমিকরা আজমপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তবে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মহোদয় নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং শ্রমিকদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালান।
কিন্তু বেতন বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত সড়ক ছাড়বেন না বলে অনড় থাকেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের ওপর চড়াও হলে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বাধ্য হয়ে পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জ করে এবং আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে পুনরায় স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করে।
অ্যাম্বুলেন্স আটকে রোগীর আশঙ্কাজনক অবস্থা:
অবরোধ চলাকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে করে রোগী বহনকারী একটি জরুরি অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘক্ষণ আজমপুর এলাকায় আটকা পড়ে থাকে। যথাসময়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারায় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় অ্যাম্বুলেন্সটি বিকল্প পথে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
এ বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে ওই এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :