অনুমোদন নেই, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুনামগঞ্জের মঙ্গলকাটায় চলছে স-মিল
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
কুলেন্দু শেখর দাস, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মঙ্গলকাটা বাজারে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনুমোদনহীন স-মিল চালানোর অভিযোগ উঠেছে আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় মোবাইল কোর্টে জরিমানা ও মিল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও ফের কাঠ চেরাইয়ের কাজ শুরু করেছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের মঙ্গলকাটা বাজারে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও লাইসেন্স ছাড়াই স-মিলটি পরিচালিত হয়ে আসছে। গত ২৪ জুলাই সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদিত্য পালের নেতৃত্বে স-মিলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় লাইসেন্স না থাকায় মিল মালিক আব্দুস সালামকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহ না করা পর্যন্ত মিল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রায় এক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর গত আগস্ট মাসে আবারও মিলটি চালু করেন মালিক। বর্তমানে সেখানে নিয়মিত কাঠ চেরাইয়ের কাজ চলছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
সীমান্তের কাঠ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
মঙ্গলকাটা বাজারটি ভারতের মেঘালয় সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনা বিভিন্ন জাতের গাছ স-মিলে এনে রাখা হয়। তাঁদের দাবি, মিলের আশপাশে মেহগনি, শিলকড়ই, আকাশীসহ বিভিন্ন জাতের গাছ মজুত রয়েছে।
তবে এসব কাঠের উৎস ও মিল মালিকের সঙ্গে চোরাকারবারিদের কথিত যোগসাজশের অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, মিলের ভেতরে কাঠ চেরাইয়ের কাজ চলছিল। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে মিল মালিক আব্দুস সালাম সরে যান। পরে শ্রমিকরাও কাঠ চেরাই বন্ধ করে দেন।
এ ছাড়া রাস্তার পাশে স-মিলটি স্থাপন করায় ধুলাবালি ও শব্দদূষণে সাধারণ পথচারী এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
মিল চালানোর কথা স্বীকার মালিকের
মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে স-মিল চালু রাখার বিষয়টি স্বীকার করেন আব্দুস সালাম। তবে সরাসরি বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা রিপোর্ট করেন আর বলেন মালিককে পাওয়া যায়নি। যা পারেন লিখেন আমার বিরুদ্ধে।”
অভিযান চালানোর ঘোষণা প্রশাসনের
সুনামগঞ্জ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন স-মিলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে ওই স-মিলের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে করাত কলটি জব্দের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদিত্য পাল বলেন, লাইসেন্স না থাকায় স-মিল মালিককে জরিমানা করা হয়েছিল এবং বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহ না করা পর্যন্ত মিল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরও অবৈধভাবে মিল চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেলে শিগগিরই এর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে
অনুমোদনহীন স-মিল চালানোর অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে মিলটির বৈধতা ও কাঠের উৎস যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
আপনার মতামত লিখুন :