মানবিক ওসি রতন সেখ ও দুই সাংবাদিকের উদ্যোগ: অসহায় দিনমজুর সাজু মিয়া পেলেন ২৩ হাজার টাকার সহায়তা


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ০২ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:


আমির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:

হাওর পাড়ের এক অসহায় দিনমজুরের কান্না ছুঁয়ে গেল প্রবাসীদের মন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ইতিবাচক ক্ষমতায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বদলে গেল ৪ সন্তানের জনক সাজু মিয়ার ভাগ্য। সুনামগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রতন সেখ পিপিএম-এর আন্তরিক উদ্যোগ এবং স্থানীয় দুই সাংবাদিকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অবশেষে ২৩ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তাসহ খাদ্য সামগ্রী পেয়েছে অসহায় পরিবারটি।

​ফেসবুকের ভিডিওতে ফুটে ওঠে করুণ চিত্র

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মে ২০২৬ (রবিবার) সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের ডুপিকোনা গ্রামের হাওর পাড়ের বাসিন্দা দিনমজুর ও রং মিস্ত্রি সাজু মিয়ার 'ওয়ার্ল্ড ভিশন' থেকে পাওয়া ৪৫টি হাঁস কে বা কাহারা বিষ প্রয়োগে মেরে ফেলে। উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে ১ জুন (সোমবার) বিকালে মরা হাঁসগুলো নিয়ে সদর থানায় হাজির হন সাজু মিয়া।

​বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমলে নেন ওসি মোঃ রতন সেখ। ঘটনার পর স্থানীয় তিন সাংবাদিক সাজু মিয়ার বাড়িতে ছুটে যান এবং তার পরিবারের মানবেতর জীবনযাত্রার ওপর একটি ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে সুনামগঞ্জের দুই সাংবাদিকের ফেসবুক আইডি এবং 'সদর থানা' ফেসবুক পেজে ভিডিওটি আপলোড করা হলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়।

​এগিয়ে এলেন প্রবাসীরা

​সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা নজরে আসে সৌদি আরব প্রবাসী দুই সহৃদয় ব্যক্তির। তারা তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করেন ভিডিওটি তুলে ধরা দুই সাংবাদিক—'দৈনিক সকালের সময়' পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি কে. এম. শহীদুল এবং 'দৈনিক সুনামকণ্ঠ' এর স্টাফ রিপোর্টার মোহাম্মদ নুর-এর সাথে।

  • প্রথম প্রবাসী: সুনামগঞ্জ পৌর শহরের হাসন নগর মরা টিলা রোডের বাসিন্দা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) এক সৌদি প্রবাসী যুবক সাংবাদিক কে. এম. শহীদুলের বিকাশ নম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠান।
  • দ্বিতীয় প্রবাসী: সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লালপুর গ্রামের অপর এক সৌদি প্রবাসী বাসিন্দা সাংবাদিক মোহাম্মদ নুরের মাধ্যমে আরও ১০ হাজার টাকা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।

​মাঠে নামলেন ওসি, মিলল স্থায়ী সমাধান

​প্রবাসীদের এই অর্থ সহায়তার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সদর থানার ওসি মোঃ রতন সেখ পিপিএম-কে জানানো হলে, তিনি নিজেই সহায়তার টাকা ও খাদ্য সামগ্রী নিয়ে দুর্গম হাওর পাড়ে সাজু মিয়ার বাড়িতে ছুটে যান।

​প্রবাসীদের পাঠানো ২০ হাজার টাকার সাথে আরও ৩ হাজার টাকা যুক্ত করে মোট ২৩ হাজার টাকার একটি বিশেষ প্যাকেজ তৈরি করা হয়। সাজু মিয়ার স্থায়ী কর্মসংস্থানের জন্য:

  • ১১,০০০ টাকা দিয়ে একটি নতুন নৌকা কিনে দেওয়া হয়।
  • ৯,০০০ টাকা নগদ অর্থ সরাসরি তার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
  • ১ বস্তা চালের ব্যবস্থা করে তা সাজু মিয়ার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন ওসি। (বাকি টাকা অন্যান্য জরুরি আনুষঙ্গিক খরচে সমন্বয় করা হয়)
  • ওসি মোঃ রতন সেখ পিপিএম জানান:

    "হাঁসগুলোকে বিষ দিয়ে মেরে ফেলার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এই নৃশংস ঘটনার তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো জরুরি ছিল। আমরা এলাকার মুরুব্বীদের সাথে নিয়ে সরেজমিনে গিয়ে এই সহায়তা পৌঁছে দিয়েছি। মানবিক এই কাজে যারা এগিয়ে এসেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।"


    ​স্থানীয় মুরুব্বীদের উপস্থিতিতে ওসির হাত থেকে এই উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দিনমজুর সাজু মিয়া। বিপদের দিনে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে এভাবে পুলিশ, সাংবাদিক ও প্রবাসীরা মিলে পাশে দাঁড়ানোয় তিনি সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ