___________________________________
বিশেষ প্রতিবেদক, বগুড়া |
বগুড়া: উত্তরাঞ্চলের জেলা বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ তেলের খনি আবিষ্কারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যে খনি থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের বিপুল মজুত পাওয়ার কথা ছিল, সেটি পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করার আগেই রহস্যজনকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কী কারণে এই বিশাল প্রকল্পের কাজ থমকে গেল, তা এখনো সবার কাছে এক বড় রহস্য।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গিয়েছিল, গাবতলীর মাটির নিচে লুকিয়ে আছে জ্বালানি তেলের এক বিশাল সমুদ্র। এই আবিষ্কারের ফলে বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর জ্বালানি খাতের ভাগ্য বদলে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে অর্থনীতিবিদরা। বলা হচ্ছিল, এই খনিটি চালু হলে বাংলাদেশ জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জন করবে এবং দেশের অর্থনীতির মোড় ঘুরে যাবে।
সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরও হঠাৎ করেই প্রকল্পের কাজ স্থগিত করে খনি মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গাবতলী এলাকায় প্রকল্পটিকে ঘিরে যে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন গভীর হতাশায় রূপ নিয়েছে। কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানাবিধ প্রশ্ন দানা বাঁধছে:
গাবতলীর এই তেলের খনি চালু হলে ওই অঞ্চলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হতো এবং অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হতো। কাজ বন্ধ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, কেন এবং কার ইশারায় এই জাতীয় সম্পদকে মাটির নিচেই ফেলে রাখা হচ্ছে, তার সঠিক ব্যাখ্যা দিতে হবে।
উত্তোলন কাজ কি চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল, নাকি এটি সাময়িক কোনো সিদ্ধান্ত—সে বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী। গাবতলীর এই 'অজানা রহস্য' কি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে, নাকি চিরতরে চাপা পড়ে থাকবে দেশের সমৃদ্ধির চাবিকাঠি?
বিশেষ প্রতিবেদক, বগুড়া |
আপনার মতামত লিখুন :