এসএসসি পাসের আগেই চাকরি, পরে প্রধান শিক্ষক! কালীগঞ্জে হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
এসএসসি পাসের আগেই চাকরি, পরে প্রধান শিক্ষক! কালীগঞ্জে হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু
____________________________
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার নারায়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে এসএসসি সনদ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এসএসসি পাসের আগেই চাকরিতে যোগদান, পরে সেই সনদ দিয়ে একাধিকবার আত্তীকরণ ও শেষ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির অভিযোগে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস।
উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের সূত্রে জানা যায়, হাবিবুর রহমান ১৯৮৩ সালের ২৫ জুন বড়শিমলা কারবালা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। অথচ তিনি এর আগেই—১৯৮২ সালকে এসএসসি পাস দেখিয়ে ১৫ মে ১৯৮৩ তারিখে সরাবদিপুর রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে এই অবৈধ নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়।
পরে ১৯৮৬ সালে স্কুলটি জাতীয়করণ হলে তিনি আবার নতুন করে এইচএসসি পাস দেখিয়ে আত্তীকরণ করেন। এরপর ১৯৯২ সালে এবং ২০০৭ সালেও আরও দুইবার আত্তীকরণ নেন। অথচ নিয়ম অনুযায়ী একজন শিক্ষক একবার আত্তীকরণ হওয়ার পর পুনরায় এই সুযোগ পাওয়ার কোনো বিধান নেই।
এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—
“আত্তীকরণের আগেই তিনি কীভাবে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পেলেন?”
এ বিষয়ে উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসার নাজিমুদ্দিন জানান, হাবিবুর রহমান কর্তৃক জমা দেওয়া এসএসসি ও এইচএসসি সার্টিফিকেটে অসঙ্গতি, নিয়োগপত্রে গরমিল এবং বারবার আত্তীকরণ নেওয়ার ঘটনায় গভীর সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১০ নভেম্বর এ সংক্রান্ত অভিযোগ খুলনা বিভাগীয় হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান,
> “১০ মে ১৯৮৩ তারিখে যে সনদ দিয়ে তিনি চাকরিতে যোগদান করেন, সেই সনদ অনুযায়ী তার প্রকৃত পাসের তারিখ ২৫ জুন ১৯৮৩—এটা বড় ধরনের গরমিল। তার নথিপত্র পর্যালোচনায় একাধিক অনিয়ম পাওয়া গেছে।”
এদিকে অভিযোগ অনুসন্ধানে দেখা যায়—
১৯৮৩ সালে চাকরিতে যোগদান
১৯৮৬ সালে প্রথম আত্তীকরণ
১৯৯২ সালে দ্বিতীয় আত্তীকরণ
২০০১ সালে প্রধান শিক্ষক পদোন্নতি
২০০৭ সালে আবারো আত্তীকরণ
এগুলোর প্রতিটিতেই নিয়ম বহির্ভূত কার্যক্রমের প্রমাণ মিলেছে বলে সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা যায়।
উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস একাধিকবার চিঠি পাঠালেও হাবিবুর রহমান কোনো উত্তর দেননি। আগামী ডিসেম্বরেই তিনি অবসরে (এলপিআর) যাওয়ার কথা থাকায় বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে সব তথ্য জানিয়ে দিয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান এবং সব দায়-দায়িত্ব প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন।
হাফিজুর রহমান,
কালীগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
আপনার মতামত লিখুন :