"যোগ্যতা কখনো মানুষের সাথে অবিচার করে না"—কথাটি আবারও প্রমাণ করলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর নতুন একটি দায়িত্ব পাওয়ার খবর নিয়ে বেশ চর্চা হচ্ছে। তবে খবরটি যে পদেই হোক না কেন, মূল সত্যটি হলো—আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে না পারলেও বিশ্ব ক্রিকেট তাঁকে মাথায় তুলে রেখেছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বুলবুলের জয়জয়কার
বুলবুল দীর্ঘদিন ধরেই আইসিসি (ICC) এবং এসিসি (ACC)-র ক্রিকেট উন্নয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন। যেখানে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব তাঁর কাঁধে, সেখানে নিজ দেশে তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে না লাগানোটা বড় এক আক্ষেপের বিষয়। বিসিবি থেকে তিনি হয়তো সরাসরি কোনো দায়িত্ব পাননি, কিন্তু তাঁর আন্তর্জাতিক পদমর্যাদা প্রমাণ করে যে সীমানার ওপারে তাঁর গুরুত্ব কতটুকু।
দেশের মেধা কি দেশের বাইরেই থেকে যাবে?
আমাদের দেশে প্রায়ই একটা কথা শোনা যায়—"এই দেশে ভালো কাজ করে ভাত নেই।" বুলবুলের মতো দক্ষ এবং অভিজ্ঞ সংগঠকরা যখন বিসিবির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বাইরে থাকেন, তখন সেই আক্ষেপ আরও তীব্র হয়। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে বহু মেধাবী মানুষ উন্নত ভবিষ্যৎ আর সম্মানের খোঁজে ভিনদেশে পাড়ি জমান। বুলবুলের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। দেশের ক্রিকেট প্রশাসন তাঁর মেধা ব্যবহার করতে ব্যর্থ হলেও, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো তাঁর দূরদর্শিতাকে ঠিকই খুঁজে নিয়েছে।
যোগ্যতার অনন্য দৃষ্টান্ত
বুলবুলের এই যাত্রা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, মেধা এবং পরিশ্রম থাকলে যে কেউ বিশ্বমঞ্চে নিজের আসন দখল করতে পারে। বিসিবির বড় কোনো দায়িত্বে তিনি থাকলেন কি থাকলেন না, তাতে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে কোনো প্রভাব পড়েনি। বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বড় দায়িত্বগুলোই তাঁর যোগ্যতার আসল সনদ।
আমিনুল ইসলাম বুলবুলের এই পথচলা বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটার এবং আগামী প্রজন্মের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। তিনি শিখিয়েছেন, ঘরোয়া রাজনীতি বা অবহেলা আপনার পথ আটকে রাখতে পারবে না যদি আপনার যোগ্যতা থাকে বিশ্বমানের। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—আমরা আর কতদিন আমাদের দেশের সোনার সন্তানদের বিদেশের মাটিতে সমাদৃত হতে দেখব? কবে দেশের মাটিতেই তাঁদের যোগ্য সম্মান দেওয়া হবে?
আপনার মতামত লিখুন :