নদীভাঙন ও বন্যায় বিপর্যস্ত কুড়িগ্রাম, উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে পড়া জেলার প্রত্যাশা—স্থায়ী সমাধান পদক্ষেপ
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ২৫ জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
আশির্বাদ রহমান
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
নদ-নদী দিয়ে ঘেরা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা কুড়িগ্রাম। কিন্তু এ জেলার মানুষের ভাগ্যে যেন সবসময়ই জুটেছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ—বিশেষ করে নদীভাঙন ও বন্যা। এসব দুর্যোগ বছরের পর বছর ধরে মানুষকে ঠেলে দিয়েছে অনিশ্চয়তা আর দুর্ভোগের অতল গহ্বরে। ফলে উন্নয়নের দিক থেকে কুড়িগ্রাম এখনও পিছিয়ে রয়েছে দেশের অনেক জেলার তুলনায়।
খরা মৌসুমে যখন নদীর পানি শুকিয়ে চর জেগে ওঠে, তখন সেসব চরে গড়ে ওঠে মানুষের বসতি। কিন্তু বর্ষা এলেই নদী রূপ নেয় ভয়ঙ্কর রূপে। বন্যার তোড়ে বিলীন হয়ে যায় ঘরবাড়ি, সহায়-সম্পদ, এমনকি স্বপ্নও। নদীভাঙনের শিকার হয়ে বহু পরিবার হারিয়েছে তাদের বসতভিটা, বারবার গড়ে তোলার চেষ্টা করেও টিকে থাকতে পারেনি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সামনে।
বিশেষ করে ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। নদীর কাঁচার ভাঙনে কখন যে ভিটেমাটি নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে—সে চিন্তায় প্রতিনিয়ত সন্ত্রস্ত হয়ে থাকে এই অঞ্চলের মানুষ। বসতভিটা হারিয়ে বহু পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে, দুর্ভোগ নেমে আসে চরমে। আর এসব ক্ষয়ক্ষতির পুনর্গঠনে সরকারের ব্যয় হয় কোটি কোটি টাকা।
দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলেও কুড়িগ্রামের মানুষের দুর্ভোগ যেন কাটছেই না। তবে সম্প্রতি নদীখনন ও তীর সংরক্ষণ প্রকল্প শুরু হয়েছে কিছু এলাকায়। এতে জেগেছে নতুন আশার আলো। জেলার মানুষ এখন স্বপ্ন দেখছে একটি টেকসই, উন্নয়নমুখী “নতুন কুড়িগ্রাম” গড়ার।
নদী পাড়ের মানুষের দাবি, বন্যা ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে। তারা চায়, শুধু ত্রাণ ও পুনর্বাসনে সীমাবদ্ধ না রেখে স্থায়ী বাঁধ, নদীশাসন এবং জীবিকার বিকল্প পথ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করুক সরকার।
এখন সময় এসেছে, দুর্যোগপ্রবণ কুড়িগ্রামকে জাতীয় উন্নয়নের মূলস্রোতে সম্পৃক্ত করতে প্রকৃত সমাধানের পথে হাঁটার। তা না হলে “নদীভাঙা কুড়িগ্রাম” শব্দটি একটি স্থায়ী পরিচয় হয়েই থেকে যাবে।
আশির্বাদ রহমান
দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন,
কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা।
আপনার মতামত লিখুন :