এসএম জামাল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট:
অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘এশিয়া পোস্ট’-এ প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানিয়ে ১ হাজার কোটি টাকার মানহানির আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী।
শনিবার (২৩ মে) প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানভীর আহমেদ আল-আমিন এই নোটিশ পাঠান। নোটিশে এশিয়া পোস্টের সম্পাদক ও প্রকাশক পলাশ মাহমুদ এবং প্রতিবেদক জাকারিয়া নূরীকে বিবাদী করা হয়েছে।
সম্প্রতি এশিয়া পোস্টে মাসুদ সাঈদীর প্রকল্প নিয়ে পরপর দুটি সংবাদ প্রকাশিত হয়:
১. ১৯ মে: ‘মাসুদ সাঈদীর ইস্তানবুল হোটেলে বিনিয়োগকারীদের ১৭৫ কোটি টাকা গেল কোথায়’
২. ২০ মে: ‘৬ বিঘার অনুমোদন নিয়ে ৩০ বিঘার শেয়ার বিক্রি করছে মাসুদ সাঈদীর ইস্তানবুল হোটেল’
আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, এই সংবাদ দুটির মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে কোম্পানির সুনাম ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করা হয়েছে।
মাসুদ সাঈদীর পক্ষে তার আইনজীবী নোটিশে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছেন:
সংবাদে দাবি করা হয়েছিল, বিনিয়োগকারীদের জমানো ১৯০ কোটি টাকার মধ্যে ৯২% (১৭৫ কোটি টাকা) ব্যাংক হিসাব থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। এর জবাবে নোটিশে বলা হয়:
"আমাদের মক্কেলরা এখনও ১৯০ কোটি টাকা সংগ্রহই করেননি। বিনিয়োগকারীদের জমা দেওয়া অর্থ শতভাগ সুরক্ষিত রয়েছে। একটি টাকাও আত্মসাৎ বা অপব্যবহার করা হয়নি।"
আইন না মেনে জনসাধারণের কাছে শেয়ার বিক্রির যে অভিযোগ সংবাদে তোলা হয়েছে, তা নাকচ করে নোটিশে বলা হয়, এটি একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি এবং জনসাধারণের কাছে কোনো শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।
৬ বিঘা জমি ও কুয়াকাটা পৌরসভার অনুমোদন প্রসঙ্গে নোটিশে উল্লেখ করা হয়:
নোটিশে দাবি করা হয়, সংবাদ প্রকাশের আগে মাসুদ সাঈদী দেশে ফিরে নথিপত্র দেখানোর কথা বললেও প্রতিবেদক তাকে কোনো সময় দেননি। এটি "হলুদ সাংবাদিকতার একটি চরম দৃষ্টান্ত" বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
গত ২১ মে এশিয়া পোস্টে প্রকাশিত প্রতিবাদলিপির জবাবে নোটিশে বলা হয়, সেখানে "মনগড়া একটি শব্দও লেখা হয়নি" বলে আগের মিথ্যা বক্তব্যকেই প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে "সঠিক তথ্য দিলে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে" বলার অর্থ হলো—তারা মূলত নিছক অনুমানের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন।
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, এই কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদের কারণে মাসুদ সাঈদী এবং তার প্রতিষ্ঠানের অন্তত ১,০০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এটি দণ্ডবিধির ৫০০/৫০১/৫০২/১০৯ ধারার অধীনে ২ বছরের কারাদণ্ডযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ।
চূড়ান্ত নির্দেশনা:
নোটিশ প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে এশিয়া পোস্টের অনলাইন ও ভিডিও প্ল্যাটফর্ম থেকে সংবাদগুলো সরিয়ে নিতে হবে এবং একই গুরুত্ব দিয়ে নিউজ পোর্টালে নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় বিবাদীদের বিরুদ্ধে ১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :