হাকিকুল ইসলাম খোকন ও এমডি নাসির, বাপসনিউজ:
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ও সিনেট—কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বড় ধরনের জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। নির্বাচনী মাঠে ডেমোক্র্যাটদের এই ‘ব্লু টাইড’ বা নীল জোয়ারের মুখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় রাজনৈতিক বিপর্যয়ের সামনে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বাপসনিউজ, আইবিএননিউজ ও নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান-প্রভাবিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত টেক্সাস ও কানসাসের মতো রাজ্যেও সিনেট আসন ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। সাতটি রাজ্যে সিনেট আসনের নাটকীয় পরিবর্তনের পাশাপাশি ওহাইও ও টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচনেও জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীরা। এই নির্বাচনে ট্রাম্পের সরাসরি সমর্থনপুষ্ট একাধিক প্রার্থীর পরাজয় রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক অবস্থানকে নড়বড়ে করে দিয়েছে।
নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রভাব
নির্বাচনী জরিপ ও এক্সিট পোল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মূলত উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক দাম এবং অর্থনৈতিক চাপ ভোটারদের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬২ শতাংশ ভোটার মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কারণেই বাজার দর অনিয়ন্ত্রিত হয়েছে। এ ছাড়া ৭১ শতাংশ ভোটার কংগ্রেসের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর কড়া নজরদারির পক্ষে রায় দিয়েছেন।
কংগ্রেসে শক্তিশালী হচ্ছে হাকিম জেফ্রিস ও চাক শুমারের প্রভাব
ডেমোক্র্যাটদের এই জয়ের ফলে প্রতিনিধি পরিষদে হাকিম জেফ্রিস এবং সিনেটে চাক শুমারের দলীয় নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। উভয় কক্ষে একক নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি পর্যবেক্ষণ, বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ওপর তদন্ত এবং নতুন আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটরা এখন চালকের আসনে থাকবে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ডেমোক্র্যাটদের প্রস্তাবিত বিল বা নীতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হবে, কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে এখনো ‘ভেটো’ প্রয়োগের ক্ষমতা বহাল রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদী প্রশাসনের জন্য ভোটারদের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট বার্তা। আগামী দুই বছর কংগ্রেসে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের রাজনৈতিক ভিত্তি আরও মজবুত করার সুযোগ পেল।
আপনার মতামত লিখুন :