বিশেষ প্রতিবেদক:
দুই বছরেরও বেশি সময় কার্যত অচল থাকার পর অবশেষে পূর্ণাঙ্গ ও সচল হওয়ার পথে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ‘তথ্য কমিশন’। প্রতিষ্ঠানটির দেড় যুগের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো একজন নারী প্রধান তথ্য কমিশনার হিসেবে পদে নিয়োগ পেয়েছেন। একই সাথে কমিশনের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে আরও দুজন তথ্য কমিশনার পদে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ১৫(১) ধারার বিধান অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই নিয়োগ কার্যকর করা হয়েছে।
কমিশনের নবাগত প্রধান তথ্য কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের খ্যাতনামা শিক্ষক অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান। ২০০৯ সালে তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ৬ জন প্রধান তথ্য কমিশনার দায়িত্ব পালন করলেও তিনি-ই প্রথম নারী হিসেবে এই শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত হলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংবাদ মাধ্যম ও টেলিভিশনে উপস্থাপক ও বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিত ভূমিকা পালন করে আসছেন।
প্রধান তথ্য কমিশনারের পাশাপাশি নবনিযুক্ত অন্য দুই তথ্য কমিশনার হলেন:
১. এস এ এম মাহফুজুর রহমান: তিনি বার্তা সংস্থা ইউএনবি (UNB)-র সাবেক সম্পাদক এবং প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২. খান মোহাম্মদ আবুল হোসেন: তিনি দৈনিক দিনকাল পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী, কোনো সরকারি, আধা-সরকারি কিংবা বেসরকারি সংস্থার কাছে সাধারণ নাগরিক তথ্য চেয়ে না পেলে অথবা তথ্য প্রদানে কোনো ধরনের অসংগতি দেখা দিলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি তথ্য কমিশনে আপিল বা অভিযোগ জানাতে পারেন। দীর্ঘ দিন পদ খালি থাকা ও কার্যক্রম স্থবির থাকার ফলে নাগরিক আবেদন ও আপিল শুনানি জমে ছিল।
নতুন এই তিন সদস্যের নিয়োগের মধ্য দিয়ে তথ্য কমিশনে জমে থাকা আপিল শুনানি এবং নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় গতি ফিরবে বলে আশা করছেন খাতসংশ্লিষ্ট ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রধান তথ্য কমিশনার ও অন্য তথ্য কমিশনারদের পদমর্যাদা, পারিশ্রমিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সরকার নির্ধারণ করবে এবং এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :