নাগরপুরে ক্লাস চলাকালে শিক্ষিকাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ, অভিযুক্ত দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
মোঃ আশরাফুল হক বাবু
নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার পচাসারুটিয়া মেহের আলী খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে এক সহকারী শিক্ষিকাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। বুধবার (১৫ অক্টোবর) ষষ্ঠ ঘণ্টায় বাংলা ক্লাস চলাকালে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা রিমা রানী পাল। এ ঘটনায় তিনি প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার প্রতিষ্ঠানের চারতলা একাডেমিক ভবনে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চলছিল। এ সময় দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাস নিতে যান সহকারী শিক্ষিকা রিমা রানী পাল। ক্লাস চলাকালে ওই শ্রেণির শিক্ষার্থী ইব্রাহিম খলিল অতিরিক্ত কথা বলতে থাকলে শিক্ষিকা তাকে কথা বলতে নিষেধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষিকার বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী শিক্ষিকাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। শ্রেণিকক্ষে একজন নারী শিক্ষিকার সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য রাগবীর হোসেন বলেন, “ঘটনাটি শোনার পর প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা রিমা রানী পাল বলেন, “দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থী ইব্রাহিম খলিল অতিরিক্ত কথা বলতে থাকলে আমি তাকে নিষেধ করি। এতে সে আমার ওপর আঘাত করে। এ ঘটনায় আমি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”
প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শহিদুর রহমান বলেন, “দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আমার সহকারী শিক্ষিকা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের সভাপতিকে অবহিত করেছি। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তা এখন দেখার বিষয়।
আপনার মতামত লিখুন :