কাগজে কলমে অরণ্য, বাস্তবে সাফ! ৮ হাজার গাছ গেল কোথায়?


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ০৮ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:


আবু কাওসার মাখন, রাজশাহী ব্যুরো:

​রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (রামেবি) ক্যাম্পাসে থাকা প্রায় ৮ হাজার গাছের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কাগজে-কলমে ২৫ হাজার ৮৪২টি গাছের হিসাব থাকলেও বাস্তবে এর বড় একটি অংশ উধাও। অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রভাবশালী চক্র গাছগুলো লুট করে হজম করেছে। বিষয়টি খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের নজরে আসার পর তোলপাড় শুরু হয়েছে।

​মঙ্গলবার সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে রামেবির উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হকের সঙ্গে কঠোর ভাষায় কথা বলেন। মন্ত্রীর নির্দেশে উপাচার্য তড়িঘড়ি করে ক্যাম্পাস পরিদর্শনে যান।

​মন্ত্রীবরকে দেওয়া ভিসির সাফাই ও বাস্তবতা:

দুপুরের মধ্যেই ভিসি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বিক্রিত গাছের একটি হিসাব দেন। তিনি দাবি করেন, তিন দফায় নিলামের মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৬৪২টি গাছ ২৬ লাখ ১২ হাজার ৫৭০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তার দাবি, এর বাইরে কোনো গাছ কাটা হয়নি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে টেন্ডারের বাইরেও বিপুল সংখ্যক গাছ লুট করা হয়েছে।

​নথিতে ২৫ হাজার, বাস্তবে এক হাজার?

সিলিন্দা এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য অধিগ্রহণ করা ৬৭ দশমিক ৬৭৯২ একর জমিতে মোট গাছের সংখ্যা ছিল ২৫ হাজার ৮৪২টি—এমনটিই উল্লেখ আছে ২০২৩ সালের ১ জুনে জেলা প্রশাসনের পাঠানো নথিতে।

​স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রশ্নের মুখে ভিসি নিজেই স্বীকার করেন, “মন্ত্রী মহোদয়ের ফোন পেয়ে আমি প্রকল্প এলাকায় গিয়েছিলাম। আমার কাছেও মনে হচ্ছে বর্তমানে এক হাজারের মতো গাছ আছে। বাকি গাছ কোথায় গেল, তা আমিও বুঝতে পারছি না।”

​তবে ৮ হাজার গাছের এই বিশাল ঘাটতি নিয়ে জানতে চাইলে ভিসি দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, “ভূমি অধিগ্রহণের সময় ক্ষতিপূরণের অর্থ বেশি পেতে স্থানীয়রা হয়তো গাছের সংখ্যা বেশি দেখিয়েছিল।” নিলামে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত গাছ কেটেছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং প্রকৃত সংখ্যা গণনার জন্য উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দিয়েছেন বলে জানান।

​শুরু থেকেই দুর্নীতি, থমকে আছে উন্নয়ন:

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পটি শুরু থেকেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত। যার ফলে বছরের পর বছর পার হলেও ক্যাম্পাসে অবকাঠামোগত কোনো বড় উন্নয়ন কাজ দৃশ্যমান হয়নি। প্রধান ফটক ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আর কোনো স্থাপনা নির্মিত না হওয়ায় জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​সচেতন মহলের মতে, সরকারি নথিতে ২৫ হাজার গাছের হিসাব থাকার পরও ৮ হাজার গাছের হদিস না পাওয়া একটি বড় ধরণের আর্থিক দুর্নীতি। এ বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের চিহ্নিত করা জরুরি।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ