শাল্লায় মদ্যপ অবস্থায় ৩০ লিটার মদসহ ইউপি সদস্য দেবব্রত ও সহযোগী পুলিশের খাঁচায়
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ১৪ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
মোঃ ফখরুল ইসলাম, শাল্লা উপজেলা প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের শাল্লায় মাদকবিরোধী বিশেষ সাঁড়াশি অভিযানে ৩০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদসহ ৩ নং বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ও তার সহযোগীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে শাল্লা থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকালে আসামিরা মদ্যপ অবস্থায় ছিল বলে জানা গেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬ রাত আনুমানিক ১১:০০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাল্লা থানার ৩নং বাহাড়া ইউনিয়নের বাহাড়া (উত্তরপাড়া) গ্রামে এই সফল অভিযান পরিচালিত হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে, আসামিদের কে আজ সুনামগঞ্জের আদালতে সকালে প্রেরণ করা হয়েছে ।
যানা যায় . দেবব্রত তালুকদার (৩৪) [বর্তমান ইউপি সদস্য , পিতা- ব্রজেন্দ্র তালুকদার, সাং- শিবপুর। সহযোগী জীবেশ দাশ (২৪) পিতা ব্রজেন্দ্র দাশ, সাং বাহাড়া ( উত্তর পাড়া) উভয়ই ৩নং বাহাড়া ইউনিয়ন, থানা- শাল্লা, জেলা- সুনামগঞ্জ)।
থানা পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, শাল্লা থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো: ইমাম আরেফিন-এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারে অবস্থানকালীন সময়ে গোপন সংবাদ পায় যে, বাহাড়া গ্রামে মাদক কেনাবেচা চলছে। সংবাদের সত্যতা যাচাই করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিতপূর্বক ৩নং বাহাড়া ইউনিয়নের বাহাড়া (উত্তরপাড়া) গ্রামস্থ ১নং আসামি জীবেশ দাশের বসত বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকেই ৩নং বাহাড়া ইউনিয়নের বর্তমান মেম্বার দেবব্রত তালুকদার এবং তার সহযোগী জীবেশ দাশকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটকের পর উপস্থিত স্থানীয় সাক্ষীদের সম্মুখে তল্লাশি চালিয়ে ১নং আসামি জীবেশ দাশের শয়নকক্ষের খাটের নিচ হতে ৩টি সাদা প্লাস্টিকের কনটেইনার উদ্ধার করা হয়। উক্ত কনটেইনারগুলোর প্রতিটিতে ১০ লিটার করে সর্বমোট ৩০ (ত্রিশ) লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১৫,০০০/- (পনেরো হাজার) টাকা। রাত ২৩:২০ ঘটিকায় নিয়মমোতাবেক জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে স্থানীয় সাক্ষী ও সঙ্গীয় ফোর্সের স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে এই নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য নিজেদের হেফাজতে রেখেছিল। এছাড়াও গ্রেফতারের সময় আসামিরা মদ্যপ অবস্থায় থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে তাদের মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করে সার্টিফিকেট মামলার নথিতে সংযুক্ত করা হয়েছে।
আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ২৪(খ) ধারার অপরাধে শাল্লা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় ( যার মামলা নং-০৯, তারিখ ১৪ জুলাই ২০২৬ দায়ের করা হয়েছে।
শাল্লা থানা (ওসি) রোকিবুজ্জামান জানান মাদকের কড়াল গ্রাস থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে ও এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাদকের বিরুদ্ধে তাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তি জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রভাবশালী যাই হোক না কেন, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
আপনার মতামত লিখুন :