ডেস্ক রিপোর্ট | দৈনিক প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর
ঢাকা: দেশে কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের নারকীয় উৎসব। প্রতিদিন খবরের কাগজের পাতা কিংবা অনলাইন পোর্টালের স্ক্রিনে ভেসে উঠছে একের পর এক শিশুর ওপর পাশবিক নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার রোমহর্ষক খবর। ৩-৪ বছরের শিশু থেকে শুরু করে স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও আজ ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে, যা প্রতিটি অভিভাবককে করে তুলেছে চরম শঙ্কিত।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক ডেটা অনুযায়ী, বিগত বছরগুলোর তুলনায় চলতি বছরে শিশু ধর্ষণের হার জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু ২০২৩ ও ২০২৪ সালই নয়, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের প্রথম কয়েক মাসেই এই গ্রাফ আশঙ্কাজনকভাবে ওপরের দিকে উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতি মাসে গড়ে ডজনেরও বেশি শিশু দলবদ্ধ ও একক ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, যাদের অধিকাংশেরই বয়স ১২ বছরের নিচে।
সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীরব মহামারির পেছনে প্রধানত কয়েকটি সামাজিক ও আইনি দুর্বলতা কাজ করছে:
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ পাস করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে অধিকার কর্মীরা বলছেন, শুধু কঠোর আইন কাগজে-কলমে থাকলেই হবে না, অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে (নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে) তদন্ত সম্পন্ন করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
এই সামাজিক সংকট উত্তরণে অবিলম্বে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজ। একই সাথে সন্তানদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন ও বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়া এবং সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায় একটি পুরো প্রজন্মের শৈশব চিরতরে অন্ধকারের অতলে হারিয়ে যাবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন
আপনার মতামত লিখুন :