বিপন্ন শৈশব: দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণ


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ২০ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:


ডেস্ক রিপোর্ট | দৈনিক প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর

ঢাকা: দেশে কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের নারকীয় উৎসব। প্রতিদিন খবরের কাগজের পাতা কিংবা অনলাইন পোর্টালের স্ক্রিনে ভেসে উঠছে একের পর এক শিশুর ওপর পাশবিক নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার রোমহর্ষক খবর। ৩-৪ বছরের শিশু থেকে শুরু করে স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও আজ ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে, যা প্রতিটি অভিভাবককে করে তুলেছে চরম শঙ্কিত।

​পরিসংখ্যানে ভয়াবহ চিত্র

​মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক ডেটা অনুযায়ী, বিগত বছরগুলোর তুলনায় চলতি বছরে শিশু ধর্ষণের হার জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু ২০২৩ ও ২০২৪ সালই নয়, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের প্রথম কয়েক মাসেই এই গ্রাফ আশঙ্কাজনকভাবে ওপরের দিকে উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতি মাসে গড়ে ডজনেরও বেশি শিশু দলবদ্ধ ও একক ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, যাদের অধিকাংশেরই বয়স ১২ বছরের নিচে।

​অপরাধ বৃদ্ধির মূল কারণ কী?

​সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীরব মহামারির পেছনে প্রধানত কয়েকটি সামাজিক ও আইনি দুর্বলতা কাজ করছে:

  • বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও দীর্ঘসূত্রতা: অপরাধের পর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া এবং আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘ জটিলতার কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। একটি মামলার রায় হতে বছরের পর বছর লেগে যাওয়ায় অন্য অপরাধীরাও সাহস পেয়ে যায়।
  • পরিচিত মহলের অন্ধকার রূপ: পরিসংখ্যান বলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিশুরা তাদের পরিচিত ব্যক্তি, আত্মীয়, প্রতিবেশী বা গৃহশিক্ষকদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। চকোলেট বা খাবারের লোভ দেখিয়ে কোমলমতি শিশুদের সহজে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে।
  • সামাজিক অবক্ষয় ও পর্নোগ্রাফি: ইন্টারনেটের অপব্যবহার, পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা এবং পারিবারিক বা সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের ফলে অপরাধপ্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
  • সামাজিক ট্যাবু ও নীরবতা: অনেক পরিবার লোকলজ্জা বা সামাজিক কলঙ্কের ভয়ে ঘটনা চেপে যায় কিংবা আইনি পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করে, যা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করে।

​কঠোর আইন, কিন্তু বাস্তবায়নে ঘাটতি

​সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ পাস করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে অধিকার কর্মীরা বলছেন, শুধু কঠোর আইন কাগজে-কলমে থাকলেই হবে না, অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে (নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে) তদন্ত সম্পন্ন করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

​বিশেষজ্ঞদের তাগিদ ও উত্তরণের উপায়

​এই সামাজিক সংকট উত্তরণে অবিলম্বে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজ। একই সাথে সন্তানদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন ও বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়া এবং সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায় একটি পুরো প্রজন্মের শৈশব চিরতরে অন্ধকারের অতলে হারিয়ে যাবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ