​সৎ হতে চাওয়ার অপরাধ এবং একজন ‘সারোয়ার আলম’


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ২২ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:


এস এম জামাল,সম্পাদক 

জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা ডিসি সারোয়ার আলম আসলেই এক ‘অস্থির’ মানুষ! তিনি যেখানেই যান, সেখানেই যেন একাই পুরো ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করতে চান। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই বর্তমান বাস্তবতায় চাইলেই কি কেউ হযরত ওমর (রাঃ)-এর মতো সৎ ও ন্যায়পরায়ণ হতে পারেন? সমাজ হয়তো কাউকে ‘ওমর’ হতে দেবে না, কিন্তু সমাজ জুড়েই যেন অন্যায় আর অসততার এক নীরব আমন্ত্রণ চলছে।

​ভাই সারোয়ার! বয়সে আপনি আমার অনেক ছোট, তাই অনুজ হিসেবেই কিছু কথা বলতে চাই। এই ঘুণে ধরা সমাজব্যবস্থার ঘূর্ণাবর্তে কর্মের দায় তো ষোলআনাই আপনার। তবে কেন আপনি বারবার এমন সব কাণ্ড ঘটিয়ে আলোচনায় আসেন, যা পুরো ব্যবস্থার ভিত নাড়িয়ে দেয়?

​আড়ং বিতর্ক ও খেসারত

​ফিরে যাওয়া যাক ২০১৯ সালের এক রমজান মাসে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে থাকাকালীন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে গিয়ে আপনি সরাসরি দেশের অন্যতম শীর্ষ এনজিও-সমর্থিত প্রতিষ্ঠান ‘আড়ং’-এর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়লেন। তাদের ক্ষমতার পরিধি কতটা বিস্তৃত, তা হয়তো আপনার অনুমেয় ছিল না। ফলশ্রুতিতে, সকালে অভিযান চালানোর পর বিকেলেই আপনার বদলির আদেশ চলে এলো। যদিও তীব্র জনরোষের মুখে সরকার আপনাকে পুনরায় ঢাকায় ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছিল, কিন্তু পুরস্কার হিসেবে আপনাকে করে রাখা হলো ‘নন-অপারেশনাল’।

​ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর ও ‘সবদলীয়’ সম্প্রীতি

​এরপর আপনার পদায়ন হলো সিলেটে। সেখানে গিয়ে আপনি দেখলেন—পূর্ববর্তী প্রশাসনের ছায়াতলে অনেক রাঘববোয়াল ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর হরিলুট করে খাচ্ছে। আপনি দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় সেই পাথর লুটপাট বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিলেন।

​লুটপাটের গভীরে গিয়ে আপনি লক্ষ্য করলেন, এই পাথর খেকোদের মাঝে এক অদ্ভুত রাজনৈতিক সম্প্রীতি বিদ্যমান! সেখানে তৎকালীন সরকারি দল, বিএনপি, জামায়াত—সবাই মিলেমিশে একাকার হয়ে এই লুটপাটের উৎসবে শামিল হয়েছিল। আপনি কেন এই ‘সবদলীয় সম্প্রীতি’ নষ্ট করতে গেলেন? স্বাভাবিকভাবেই, এই পাথরখেকো অ্যানাকোন্ডারা আপনার ওপর চরম ক্ষুব্ধ হলো এবং সঠিক সুযোগের অপেক্ষায় রইল।

​শাহজালাল (রঃ) মাজারের সিন্দুক বিতর্ক

​পাথর কাণ্ডের পর আপনি হাত দিলেন এক অতি সংবেদনশীল এবং পুঁজিহীন ব্যবসায়—হযরত শাহজালাল (রঃ)-এর মাজারের সিন্দুক ও ড্যাগের ব্যবস্থাপনা। যারা বংশপরম্পরায় এই বিশাল অর্থকড়ি নিয়ন্ত্রণ করছে, তারা নিজেদের ওলীর আওলাদ দাবি করে। অথচ ইতিহাসে হযরত শাহজালাল (রঃ) বিবাহিত ছিলেন কি না, তা নিয়েই স্পষ্ট কোনো মীমাংসা নেই।

​এই দেশের মানুষ নানামুখী সংকট ও বেকারত্বের মধ্যে কোনোমতে আয়ের পথ খোঁজে। সেখানে মাজারের খাদেম ও মোতোয়াল্লীরা এক ডিজিটাল কায়দায় কোটি কোটি টাকা আয় করে আসছিল। আপনি সেখানেও গিয়ে নিয়মকানুন জারি করলেন! ফল যা হওয়ার তাই হলো—আপনার পেছনে এবার প্রভাবশালী এক মহল লেগে গেল। শোনা যায়, মাজারের এই বিপুল অর্থ নাকি বড় বড় রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী তহবিলেও গোপনে অবদান রাখে। শীর্ষ নেতারা সংকটে পড়লে এই তহবিলই তাদের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। একজন জনপ্রশাসন কর্মকর্তা হয়েও কি আপনি এই অলিখিত সমীকরণটি জানতেন না?

​জনপ্রশাসনের ‘নীল রক্ত’ ও একাকী লড়াই

​আপনার মন্ত্রণালয় হলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। যেখানে বাস করেন ‘নীল রক্তের’ অভিজাত আমলারা। তারা সবসময় ‘জনস্বার্থে’ বদলি ও পদায়নের ফাইল নাড়াচাড়া করেন। কিন্তু একজন কর্মকর্তা যখন একা সত্য ও ইনসাফের পক্ষে দাঁড়িয়ে মজলুমের ঢাল হতে যান, তখন বুঝা যায় এই চাদরের নিচে লুকিয়ে থাকা আসল চেহারাগুলো কেমন।

​জনমত যতই আপনার পক্ষে থাকুক না কেন, বিপদের দিনে এই আমলাতান্ত্রিক চক্রের কেউই আপনার পাশে এসে দাঁড়াবে না। ইতোমধ্যে হয়তো আপনার ব্যাচমেট বা শুভাকাঙ্ক্ষীরা আপনার পরিবারকে বোঝাতে শুরু করেছে—"ঝড়ের মধ্যে একা ছাতা ধরে দাঁড়িয়ে থাকার কী দরকার? জলে বাস করে কুমিরের সাথে বিবাদ করা কি বুদ্ধিমানের কাজ?"


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ