“দৃশ্যমান রাজনীতির বাইরে আরেক ক্ষমতার খেলা? ‘ডিপ স্টেট’ নিয়ে রহস্য ঘনীভূত”


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:

রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক: কী এই ‘ডিপ স্টেট’, কী বোঝাতে চাইলেন নাহিদ-আসিফ?

____________________________________

​সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি শব্দ বেশ জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে—‘ডিপ স্টেট’ (Deep State)। বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই গুরুত্বপূর্ণ মুখ নাহিদ ইসলাম এবং আসিফ মাহমুদের বিভিন্ন বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্ট্যাটাস ঘিরে এই শব্দটিকে কেন্দ্র করে নতুন করে কৌতূহল ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

​প্রশ্ন উঠছে, তারা আসলে কাদের দিকে ইঙ্গিত করছেন? আর রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ডিপ স্টেট’ বলতে ঠিক কী বোঝায়?

​‘ডিপ স্টেট’ আসলে কী?

​‘ডিপ স্টেট’ বা ‘গভীর রাষ্ট্র’ একটি বহুল আলোচিত রাজনৈতিক ধারণা। এটি মূলত রাষ্ট্রের ভেতরে এমন এক অদৃশ্য ও সমান্তরাল ক্ষমতাকাঠামোকে বোঝায়, যারা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, কিন্তু পর্দার আড়াল থেকে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং ক্ষমতার ভারসাম্যে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।

​বিশ্লেষকদের মতে, একটি ‘ডিপ স্টেট’ সাধারণত নিচের পক্ষগুলোর সমন্বয়ে গঠিত হতে পারে:

  • সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রভাবশালী অংশ
  • উচ্চপদস্থ ও দীর্ঘমেয়াদী আমলাতন্ত্র
  • প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বা অলিগার্ক
  • বিচার বিভাগের নির্দিষ্ট কিছু অংশ

​এই শক্তিগুলো প্রকাশ্যে না থাকলেও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে বা সরকারের উত্থান-পতনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে বলে ধারণা করা হয়।

​নাহিদ ও আসিফের বক্তব্যে কীসের ইঙ্গিত?

​সাম্প্রতিক বক্তব্যে নাহিদ ও আসিফ ‘ডিপ স্টেট’ শব্দটি ব্যবহার করে মূলত এটি বোঝাতে চেয়েছেন যে, বর্তমান প্রশাসনে বা রাষ্ট্রের ভেতরে এমন কোনো শক্তিশালী গোষ্ঠী সক্রিয় আছে যারা দৃশ্যমান নেতৃত্বের বাইরে থেকে কলকাঠি নাড়ছে। তাদের মতে, এই গোষ্ঠীটি হয়তো বর্তমান সংস্কার প্রক্রিয়া বা রাজনৈতিক পরিবর্তনের গতিপথকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।

​তবে তারা সরাসরি কোনো ব্যক্তি, নির্দিষ্ট বাহিনী বা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ না করায় বিষয়টি রহস্যময় রয়ে গেছে। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে—এটি কি গত ১৫ বছরের আমলাতান্ত্রিক অবশিষ্টাংশ, নাকি নতুন কোনো শক্তির উত্থান?

​বিতর্ক: বাস্তবতা নাকি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব?

​বাংলাদেশে ‘ডিপ স্টেট’ শব্দটির ব্যবহার তুলনামূলক নতুন এবং সংবেদনশীল। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে দুটি ভিন্ন মত রয়েছে:

১. বাস্তবতার প্রতিফলন: একদল বিশ্লেষক মনে করেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের দলীয়করণ ও বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাবের কারণে একটি অদৃশ্য শক্তিকাঠামো তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

২. ষড়যন্ত্র তত্ত্ব: অন্য পক্ষ মনে করেন, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া ‘ডিপ স্টেট’-এর কথা বলা কেবলই একটি ‘কনস্পিরেসি থিওরি’ বা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হতে পারে, যা অনেক সময় রাজনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকতে ব্যবহৃত হয়।

​জনগণের ওপর এর প্রভাব

​এই বিতর্কের মূল নির্যাস হলো—রাষ্ট্র পরিচালনার প্রকৃত চাবিকাঠি কার হাতে? জনগণের দ্বারা মনোনীত প্রতিনিধিদের হাতে, নাকি কোনো অদৃশ্য শক্তির নিয়ন্ত্রণে? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ।

উপসংহার: নাহিদ ও আসিফের বক্তব্যে ‘ডিপ স্টেট’ প্রসঙ্গটি সামনে এলেও এটি এখনো তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের পর্যায়েই সীমাবদ্ধ। জনমনে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং এই রহস্যের জট খুলতে রাজনৈতিক অঙ্গন এখন আরও স্পষ্ট তথ্য ও প্রমাণের অপেক্ষায় রয়েছে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ