পরিচয় জালিয়াতি ও অপরাধের আড়ালে ‘রোহিঙ্গা রফিক’
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
পরিচয় জালিয়াতি ও অপরাধের আড়ালে ‘রোহিঙ্গা রফিক’
_______________________________
* শ্বশুরকে পিতা সাজিয়ে বানিয়েছেন এনআইডি!
* মাদক সিন্ডিকেট, নারী পাচার ও বহুবিবাহের মাধ্যমে গড়েছেন ত্রাসের রাজত্ব।
লোকমান ইসলাম রানা
মিয়ানমার থেকে সীমান্ত পেরিয়ে এক কাপড়ে বাংলাদেশে আসা যুবকটি মাত্র কয়েক বছরেই এখন কোটিপতি। নামে-বেনামে জমি, আলিশান বাড়ি আর প্রভাব-প্রতিপত্তি—সবই এখন তার হাতের মুঠোয়। তিনি রফিক, তবে এলাকায় তার পরিচিতি ‘রোহিঙ্গা রফিক’ হিসেবে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, শুধু নাম-পরিচয় পরিবর্তনই নয়, রফিক এক ভয়াবহ জালিয়াতির মাধ্যমে দেশের নাগরিকত্ব হাতিয়ে নিয়ে গড়ে তুলেছেন মাদক ও নারী পাচারের এক অন্ধকার সাম্রাজ্য।
অনুসন্ধানে রফিকের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব পাওয়ার এক অবিশ্বাস্য জালিয়াতির তথ্য পাওয়া গেছে। মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তিনি অত্যন্ত সুকৌশলে স্থানীয় এক ব্যক্তিকে অর্থ ও প্রলোভনে ম্যানেজ করে তার মেয়েকে বিয়ে করেন। এরপর শুরু হয় আসল জালিয়াতি। জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ও জন্মনিবন্ধনের নথিপত্রে তিনি নিজের আসল পিতার নাম গোপন করে আপন শ্বশুরকেই জন্মদাতা পিতা হিসেবে উল্লেখ করেন। স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্য ও দালাল চক্রকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ দিয়ে তিনি এই ভুয়া পরিচয়পত্রের বৈধতা পান। বর্তমানে তিনি এই পরিচয় ব্যবহার করে নিজেকে বাংলাদেশি দাবি করে দেশের অভ্যন্তরে নিরাপদ অপরাধের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছেন।
স্থানীয় সূত্র ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজনের তথ্য অনুযায়ী, রফিকের আয়ের প্রধান উৎস ইয়াবা ও আইসের চোরাচালান। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পুরনো যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি সীমান্তের বড় বড় চালান খালাস করেন। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অসহায় ও সুন্দরী নারীদের উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে তিনি প্রথমে নিজের আস্তানায় আনেন। পরবর্তীতে তাদের ব্ল্যাকমেইল করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন গেস্ট হাউজে অসামাজিক কাজে বাধ্য করেন। তার অবৈধ ব্যবসা তদারকি করার জন্য স্থানীয় বখাটেদের নিয়ে একটি নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলেছেন তিনি।
রফিকের ব্যক্তিগত জীবন আরও ভয়াবহ। সামাজিক অবস্থান শক্ত করতে এবং বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে তিনি এ পর্যন্ত অন্তত ৪-৫টি বিয়ে করেছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিটি বিয়ের পেছনেই তার কোনো না কোনো ব্যবসায়িক বা কৌশলগত উদ্দেশ্য ছিল। তার এই বিকৃত লালসা ও বহুবিবাহের কারণে একাধিক নারীর জীবন ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OC) জানান, রফিক নামে এক ব্যক্তির নাগরিকত্ব জালিয়াতি ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আমরা মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। পরিচয় জালিয়াতি করে নাগরিকত্ব নেওয়া একটি গুরুতর অপরাধ। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি।
র্যাবের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, সীমান্তের অপরাধী এবং যারা নাম পরিচয় পরিবর্তন করে মাদক ব্যবসায় জড়িয়েছে, তাদের তালিকা আমাদের কাছে আছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে খুব শীঘ্রই রফিকসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান চালানো হবে।
একজন ভিনদেশি নাগরিক হয়েও কীভাবে রফিক বাংলাদেশের এনআইডি পেলেন, তার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে এলাকার সচেতন নাগরিক সমাজ। অবিলম্বে তার নাগরিকত্ব বাতিল, অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আপনার মতামত লিখুন :