খুলনায় সাড়া ফেলেছে শিক্ষার্থীদের বিনা লাভের দোকান।
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ১০ মার্চ, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
শেখ শহিদুল ইসলাম মিঠু ব্যূরো প্রধান খুলনাঃ
রোজার শুরু থেকেই হঠাৎ করেই বাজারে বেড়ে গেছে কিছু পণ্যের দাম, অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ আছে, বাজারের এই সিন্ডিকেট ভাঙতে বিনা লাভের দোকান চালু করেছেন খুলনা শিক্ষার্থীরা, নগরের শিববাড়ি মোড়ে চালু হওয়া এই দোকানে পাইকারি দামে নৃত্য পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে,
৩ রমজান থেকে চালু হওয়া এই দোকান ইতিমধ্য ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিক্রি হয়ে যাবে সব পণ্য, স্বল্পমূল্যে কিনতে পেরে ক্রেতারাও খুশি প্রতিদিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত দোকান চালু রাখার কথা থাকলেও বর্তমান বেলা ৩,টা থেকে বিকেল ৫,টা পর্যন্ত দোকান বসেছে, দোকানটির নাম দেওয়া হয়েছে বিনা লাভের দোকান, এটির আয়োজন করেছে খুলনা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ট্রান্সপোর্ট টিম
আয়োজকেরা বলছেন, রমজানের মাত্র কয়েকদিন আগে যে বেগুন ছিল মাত্র ৩০ টাকা কেজি, সেই বেগুন বর্তমানে,৮০ থেকে ৯০ টাকা, শুধু বেগুনি নয় বেড়েছে অনন্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও, এসব অসাধু ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট ভাঙতে ও বাজারে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফেরাতে বিনা লাভের দোকান খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, রমজান মাস জুড়ে এই দোকান চালু থাকবে এখান থেকে সব শ্রেণি পেশার মানুষ পণ্য কিনতে পারছেন,
শিববাড়ি মোড়ে অবস্থিত এই দোকানে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশেই বাশ ও সাদা কাপড় দিয়ে দোকানের মতো তৈরি করা হয়েছে সামনে ব্যানারে লেখা বিনা লাভের দোকান, পরিচালনা করছেন গোটা বিবেক শিক্ষার্থী দোকানের সামনে বেশ ভিড়, ক্রেতাদের চাহিদা মত পণ্য দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের, দুজন ছাত্র এন্ড মাইকে দোকান থেকে পণ্য কেনার জন্য মানুষকে আহ্বান জানাচ্ছেন, মাইকের ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে দোকানে থাকা অন্যের দামও,
দোকানে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা আলু ১৭ টাকা ছোলা ৯৫ টাকা বেসন ৬৫ টাকা মুড়ি ৬৫,টাকা জিরা ৬০ টাকা টমেটো সাড়ে সাত টাকা কাঁচামরিচ ৪০ টাকা রসুন ১০০ টাকা বেশি পেঁয়াজ ৩৫ টাকায় এ ছাড়া এক লিটার সয়াবিন তেলের বোতল ১৭৫ টাকা প্রতিটি ডিম ১০ টাকা বোম্বাই ঝাল প্রতিটি দুই টাকা লেবুর হালি ২৭ টাকা ও ধনেপাতা চাহিদা মোতাবেক নিতে পারছেন ক্রেতারা,
দোকান থেকে তোলা বেগুন ও পেঁয়াজ কিনেছিলেন সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার শারমিন আলম, তিনি বলেছেন পথ দিয়ে যাচ্ছিলাম, দেখি শিক্ষার্থীরা মাইকিং করে পণ্য বিক্রি করছে, কৌতূহল হয়ে দোকানে এসে দেখি পণ্যের দাম বেশ কম, এরপর কয়েকটি পণ্য কিনেছি তেলের কথা জিজ্ঞাসা করলে বলেছে তেল শেষ হয়ে গেছে বাজারের যে অপু ১৫-২০ টাকা কমে এখানে পণ্য পাওয়া যাবে
দোকানের সামনেই কথা হয় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের খুলনা মহানগর শাখার যুগ্ন আহবায়ক ও খুলনা জেলা ট্রান্সফোস টিমের সদস্য আরিফুল ইসলামের সঙ্গে তিনি বলেন প্রাথমিক পর্যায়ে নিজেরা চাঁদা দিয়ে ফান্ড গঠন করে, পাইকারি বাজার থেকে পণ্য কেনা হচ্ছে, পণ্যের মধ্যে পরিবহন করজ ধরা হয়নি আরো শিক্ষার্থীরা কাজ করছেন সম্পূর্ন স্বেচ্ছাশ্রমে
সংগঠনটির মহানগর শাখার সংগঠক সোহানুর রহমান বলেন, কল্পনার বাইরে সাড়া পাওয়া গেছে, সাধারণ মানুষ এসে পণ্য কিনছেন প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেও ৩০০ থেকে ৪০০ ক্রেতা আসছেন,
৩০ হাজার থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হচ্ছে পণ্যের সংখ্যা ও পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি,
আপনার মতামত লিখুন :