প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে ধোপাজান নদীতে অবৈধ বালু পাচারের শক্তিশালী সিন্ডিকেট


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ২১ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:

শফিকুল বারী ​সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি। 
সুনামগঞ্জের ইজারাবিহীন ধোপাজান চলতি নদীতে সরকারি কড়াকড়ি ও গণবিজ্ঞপ্তি জারি সত্ত্বে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন থামছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট রাতের আঁধারে বিপুল পরিমাণ বালু-পাথর উত্তোলন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে। এতে সরকার যেমন লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও নদীতীরবর্তী বসতি।

জানাযায় ​পরিবেশগত মামলার কারণে গত কয়েক বছর ধরে ধোপাজান চলতি নদীতে সরকারি ইজারা দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে আইন অনুযায়ী এখান থেকে বালু বা পাথর তোলার কোনো সুযোগ নেই। তাছাড়া গত ১৩ জুলাই জেলা প্রশাসন এক গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেয়, বালুমহাল আইন মেনে কেবল ইজারাপ্রাপ্ত এলাকাতেই সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বালু তোলা যাবে। সূর্যাস্তের পর বা ইজারাবিহীন স্থান থেকে বালু-পাথর তোলা সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ।

​তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এসব আইন ও নিরাপত্তাবেষ্টনীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাত গভীর হলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে একাধিক চক্র।

​বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের চালবন পয়েন্টের পূর্বাংশে মিনাজুড়ি ও বাদেরটেক সড়ক সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে অবৈধ বালুর ডিপো বা স্তূপ গড়ে তোলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

​গভীর রাতে নদী থেকে বালু তুলে এসব ঘাটে জমা করা হয়। ​নদীর প্রবেশমুখে পুলিশ চেকপোস্ট থাকা সত্ত্বেও প্রতি রাতে অর্ধশতাধিক বালু ও পাথর বোঝাই নৌকা অবাধে পার হয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়।

​অবিরত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে চরম নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

​বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মিয়া জানান সংবাদকর্মীদের কাছ থেকে চালবন পয়েন্টে বালু পাচারের খবর পেয়ে সরকারি গাড়ি না ব্যবহার করে সাধারণ সিএনজিযোগে ছদ্মবেশে অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থলে কোনো কিছু পাওয়া যায়নি। সুনির্দিষ্ট তথ্য বা অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাকিনা আক্তার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। ঘটনা তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সদর মডেল থানার ওসি মো. রতন শেখ এবং সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি তাই তাদের কোন বক্তব্য জানা যায়নি।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ