নালিতাবাড়ীতে বনবিভাগের জমি দখলের মহোৎসব, প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে ক্ষোভ ​


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ১৮ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:


মো: মামুন হোসেন, নালিতাবাড়ী (শেরপুর) |

​শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের বাংলা মোড় এলাকায় বনবিভাগের জমি দখল করে অবৈধভাবে দোকানঘর ও বাড়িঘর নির্মাণের মহোৎসব চলছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বনবিভাগের নীরবতার সুযোগে একটি মহল একের পর এক সরকারি জমি গ্রাস করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ চান মিয়া নামে এক ব্যক্তির প্রকাশ্য জমি দখলের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

​এক নজরে মূল ঘটনা:

  • স্থান: রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের বাংলা মোড় এলাকা, নালিতাবাড়ী, শেরপুর।
  • মূল অভিযোগ: বালু ব্যবসার অজুহাতে বনবিভাগের জায়গা দখল করে দোকানঘর নির্মাণ।
  • অভিযুক্ত: স্থানীয় বাসিন্দা চান মিয়া।
  • বর্তমান পরিস্থিতি: উচ্ছেদ অভিযান না হওয়ায় একের পর এক সরকারি জমি চলে যাচ্ছে দখলদারদের কবলে।

​বালুর ব্যবসার আড়ালে যেভাবে চলছে দখল

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলা মোড় এলাকায় সম্প্রতি চান মিয়া নামে এক ব্যক্তি বনবিভাগের জায়গা দখল করে দোকানঘর নির্মাণ শুরু করেছেন। প্রথমে তিনি ওই সরকারি জায়গায় বিট বালু এনে স্তূপ করে রাখেন। এলাকাবাসী জানতে চাইলে তিনি সেখানে সাময়িকভাবে বালুর ব্যবসা করবেন বলে জানান। কিন্তু কিছুদিন যেতেই বালু সরিয়ে সেখানে স্থায়ী দোকানঘর নির্মাণের প্রস্তুতি শুরু করলে এলাকায় সমালোচনার ঝড় ওঠে।

​বেপরোয়া দখলদার চক্র, নির্বিকার প্রশাসন

​এলাকাবাসীর দাবি, শুধু চান মিয়াই নন, বাংলা মোড়সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় আরও অনেকেই একইভাবে বনবিভাগের জায়গা দখল করে নিয়েছেন। কেউ টিনশেড দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসা করছেন, আবার কেউ স্থায়ীভাবে বাড়িঘর গড়ে তুলেছেন। দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ দখল চললেও বনবিভাগ বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উচ্ছেদ অভিযান না হওয়ায় দখলদাররা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন:

"এখানে সরকারি জায়গা দখল করার একটি সুনির্দিষ্ট কৌশল রয়েছে। প্রথমে বালু বা ইট-পাথর ফেলে জায়গাটা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। এরপর ধীরে ধীরে সেখানে টিনশেড ঘর বা দোকানপাট তোলা হয়। সরকারি জায়গা যেন এখন যার যা ইচ্ছা দখল করার জায়গায় পরিণত হয়েছে।"


​"সবাই দখল করছে, তাতে কী?"— অভিযুক্তের ঔদ্ধত্য

​সরকারি জমি দখলের বিষয়ে অভিযুক্ত চান মিয়ার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো প্রকার অপরাধবোধ ছাড়াই ঔদ্ধত্যের সাথে বলেন, “কিসের দখল? এই এলাকায় সবাই দখল করে রয়েছে, তাতে কী হয়েছে?”

​অভিযুক্তের এমন প্রকাশ্যে সরকারি জমি দখলের স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য স্থানীয় সচেতন মহলকে আরও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। সচেতন নাগরিকদের মতে, এই বক্তব্য সরাসরি স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল।

​দ্রুত উচ্ছেদ অভিযানের দাবি

​নালিতাবাড়ীর সচেতন মহল ও সাধারণ এলাকাবাসীর দাবি— অবিলম্বে বাংলা মোড়সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বনবিভাগের বেদখল হওয়া সরকারি জমি উদ্ধারে যেন দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের সংরক্ষিত বনভূমি সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে যাবে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ