তেঁতুলিয়ায়,অনলাইন ক্যাসিনোয় সর্বস্ব হারাচ্ছে যুব সমাজ
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ২২ জুলাই, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
মোঃ রাকিব হাসান
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধিঃ
দেশজুড়ে তরুণ সমাজের জন্য নতুন এক সর্বনাশা ফাঁদ হয়ে উঠেছে অনলাইন জুয়া। বিশেষ করে কৌতূহল ও সহজে অর্থ উপার্জনের লোভে পড়ে অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে। শুরুটা হয় পাঁচশ থেকে এক হাজার টাকার বিনিয়োগ দিয়ে, কিন্তু অল্প সময়েই তা লাখ লাখ টাকার ক্ষতিতে পরিণত হয়।
এই অনলাইন জুয়ার বেশিরভাগ সাইট পরিচালিত হচ্ছে বিদেশ থেকে—বিশেষ করে রাশিয়া, ভারত, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে। এসব সাইটের বাংলাদেশি এজেন্টরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাষ্টার এজেন্ট, এজেন্ট এবং সাব-এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে জুয়ার বিস্তার ঘটাচ্ছে।
ফলে কোটি কোটি টাকা বৈধ পথ এড়িয়ে অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে—এই লেনদেনে ব্যবহার করা হচ্ছে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস যেমন বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়; এমনকি একাধিক ব্যাংক হিসাবও ব্যবহৃত হচ্ছে পেমেন্টে। ব্র্যাক ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ইসলামী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নামও বিভিন্ন পেমেন্ট অপশনে দেখা যাচ্ছে।
ফেক আইডি দ্বারা কথপোকথন করে থাকে এজেন্টরা, তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর বাজারের এক যুবক, আবু বকর সিদ্দিক, জানান—“উপজেলায় অনেক অনলাইন জুয়ার ডিলার সক্রিয়। বিশেষ করে ভজনপুর এলাকায় মাষ্টার এজেন্ট থেকে শুরু করে নিচের পর্যায়ের এজেন্টদের মাধ্যমে লেনদেন বেশি হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, “আমি নিজের চোখে দেখেছি, অনেকে নিঃস্ব হয়ে গেছে। আমাদের এক বন্ধু মোবারক—প্রায় দুই বছর ধরে এই জুয়ায় আসক্ত। নিজের পরিবারকে ফেলে সে খেলায় ডুবে আছে। তার স্ত্রী জানিয়েছেন, পরনের গয়না ও চুড়িও বিক্রি করে সে জুয়ার টাকা জোগাড় করত।”
তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এখনই প্রয়োজন প্রশাসনের সক্রিয়তা, সাইবার অপরাধ দমন ইউনিটের কঠোর নজরদারি এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম। গত কাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইউনিয়নের ভজনপুর ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ অনলাইন জুয়ার এজেন্টদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।
এদিকে তেঁতুলিয়া মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি (মুসা মিঞা) জানায় বিষয় টি অবগত আছে পাঁচজনের নাম লিস্ট করা হয়েছে এবং অভিযোগ পেলে অ্যাকশন নেয়া হবে
আপনার মতামত লিখুন :