রাস্তার ধারের ফুচকা-চটপটি কি ছড়াচ্ছে মারাত্মক রোগ? জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের মতামত


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ১৬ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:


​নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: 

বিকেলে একটু ফুচকা বা চটপটি না হলে যেন বাঙালির আড্ডাটা জমেই না। কুড়মুড়ে ফুচকার ভেতরে টক-ঝাল পানি কিংবা গরম-গরম চটপটির স্বাদ মুখে জল এনে দেয় সবার। তবে রসনাবিলাসের এই জনপ্রিয় অনুষঙ্গটিই এখন হয়ে উঠেছে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির অন্যতম কারণ। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, দূষিত পানি এবং অপরিচ্ছন্ন উপায়ে পরিবেশনের ফলে ফুচকা-চটপটির মাধ্যমে ছড়াচ্ছে বেশ কিছু জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী রোগ।

​জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রাস্তার ধারের চটপটি ও ফুচকার মাধ্যমে মূলত নিচের রোগগুলো সবচেয়ে বেশি ছড়াচ্ছে:

​১. টাইফয়েড ও প্যারাটাইফয়েড (Typhoid)

​ফুচকা-চটপটির মাধ্যমে ছড়ানো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রোগগুলোর একটি হলো টাইফয়েড। চিকিৎসকরা জানান, সালমোনেলা (Salmonella typhi) নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে এই রোগ হয়। বিক্রেতারা যদি দূষিত পানি, অনিরাপদ বরফ কিংবা আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি খাবার তৈরিতে যুক্ত থাকেন, তবে খুব সহজেই এই জীবাণু খাবারে মিশে যায়। এর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে দীর্ঘমেয়াদী ও তীব্র জ্বর, মাথাব্যথাসহ মারাত্মক শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

​২. ডায়রিয়া ও আমাশয় (Diarrhea & Dysentery)

​ফুচকার মূল আকর্ষণ হলো এর টক পানি। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই পানি তৈরিতে ব্যবহার করা হয় অনিরাপদ ও দূষিত পানি। এতে থাকা ই-কোলাই (E. coli) বা শিগেলা (Shigella) ব্যাকটেরিয়ার কারণে ভোক্তারা তীব্র ডায়রিয়া, পেট কামড়ানো এবং রক্ত আমাশয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন।

​৩. জন্ডিস (হেপাটাইটিস 'এ' এবং 'ই')

​হেপাটাইটিস 'এ' এবং 'ই' ভাইরাস দুটি মূলত মলের জীবাণু দ্বারা দূষিত পানি এবং খাবারের মাধ্যমে মানবদেহে ছড়ায়। ফুচকা বিক্রেতারা অনেক সময় পর্যাপ্ত পানির অভাবে টয়লেট ব্যবহারের পর সঠিকভাবে হাত জীবাণুমুক্ত করেন না। সেই অপরিষ্কার হাতে ফুচকা বা চটপটি মাখানো হলে এই ভাইরাস সরাসরি লিভারে আক্রমণ করে জন্ডিস সৃষ্টি করে।

​৪. তীব্র ফুড পয়জনিং (Food Poisoning)

​চটপটির ডাল কিংবা ফুচকার আলু ও মসলা অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ প্রচণ্ড গরমে খোলা অবস্থায় রেখে দেওয়া হয়। এতে খাবারে স্ট্যাফিলোকক্কাস-সহ বিভিন্ন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও টক্সিন তৈরি হয়। এই বাসি ও নষ্ট খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বমি, পাতলা পায়খানা, মাথা ঘোরানো এবং পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হতে পারে।

​৫. কৃমির সংক্রমণ

​রাস্তার ধুলোবালি, মাছি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে বিভিন্ন কৃমির ডিম সহজেই চটপটির ডাল বা ফুচকার ফুটের ওপর এসে পড়ে। বিশেষ করে খালি ও অপরিষ্কার হাতে ফুচকা পরিবেশন করার কারণে শিশুদের পেটে কৃমির সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

​বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সতর্কবার্তা

​স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুচকা বা চটপটি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা হলে সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো তা ঘরে তৈরি করে নেওয়া। আর যদি বাইরে খেতেই হয়, তবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অবশ্যই খেয়াল রাখা জরুরি:

  • ​বিক্রেতা খাবার পরিবেশনের সময় হাতে পরিষ্কার ওয়ান-টাইম গ্লাভস ব্যবহার করছেন কিনা।
  • ​টক পানি তৈরিতে ব্যবহার করা পানি এবং বরফ ফুটানো বা ফিল্টার করা কিনা।
  • ​দোকানটির চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং ধুলোবালিমুক্ত কিনা।

​সামান্য একটু অসচেতনতা ডেকে আনতে পারে বড় ধরনের শারীরিক বিপর্যয়। তাই মুখরোচক খাবার খাওয়ার আগে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ