নিজস্ব প্রতিবেদক, মোহনপুর
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় সামান্য ভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে এক ভ্যানচালককে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিতে চাইলে পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিহত ভ্যানচালকের নাম আলম (৪৪), তিনি বেলগাছি গ্রামের বাসিন্দা। ঘাতক মজিবর রহমানের সাথে ভাড়ার টাকা নিয়ে আলমের কথা কাটাকাটি হয়। তর্কের একপর্যায়ে মজিবর উত্তেজিত হয়ে রাস্তা থেকে ইট তুলে আলমের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে আলম মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করেন, তবে শেষ রক্ষা হয়নি; তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। অভিযুক্ত মজিবর রহমানকে ধাওয়া করে স্থানীয় 'পাঠক ক্লাবে' আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে মোহনপুর থানা পুলিশ তাকে হেফাজতে নিতে গেলে শুরু হয় বিপত্তি। উত্তেজিত জনতা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চাইলে পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে মোহনপুর থানার এএসআই বেলাল উদ্দিনসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। শেষ পর্যন্ত পুলিশের দৃঢ়তায় অভিযুক্তকে নিরাপদে থানায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব-৫ এর সদস্যদের। প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করছেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন:
অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান বলেন: > "আমরা অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছি। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।"
নিহত আলমের পরিবার ও এলাকাবাসী এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :