আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৮ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এবার সরাসরি আলোচনায় বসতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকটি প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) জার্মানির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ‘ডয়েচলান্ডফুঙ্ক’ রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য জানান।
সরাসরি আলোচনার প্রস্তুতি
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তেহরান ও ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পরোক্ষ যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। এখন তারা সরাসরি টেবিলে বসে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইয়োহান ভাডেফুল বলেন, "আমার কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, দুই পক্ষই সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনা করেছে এবং খুব শিগগিরই পাকিস্তানে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।" তিনি এই উদ্যোগকে "আশার প্রথম আলো ও আত্মবিশ্বাসের সংকেত" হিসেবে অভিহিত করেছেন।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান এই সংকট নিরসনে প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ নিশ্চিত করেছেন যে, ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে একটি ১৫-দফা শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ উভয়েই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
আলোচনার প্রেক্ষাপট
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে এই ঘোষণাটি এলো। সেখানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সরাসরি আলোচনার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা না হলেও, তারা পাকিস্তানের মাধ্যমে মার্কিন প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওমান বা কাতারের চেয়ে পাকিস্তানের সাথে ইরানের সীমান্ত এবং ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকায় ইরান এই আলোচনার জন্য ইসলামাবাদকে বেশি নিরাপদ মনে করছে। এই বৈঠকের সফলতার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর পরবর্তী পদক্ষেপ।
আপনার মতামত লিখুন :