স্ত্রী ও কন্যাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার পর বাকরুদ্ধ এই বাবা


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:

স্ত্রী ও কন্যাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার পর বাকরুদ্ধ এই বাবা—গৃহকর্মী নিয়োগে সতর্কতার গুরুত্ব আবারও সামনে
____________________________



কাজের বুয়াকে নিয়ে আমি সবসময়ই গর্ব করতাম। চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস—যাকে বলে। একবার আমার ছোটবোন সাবধান করে বলেছিল,

“ভাইয়া, বুয়াদের কখনও অন্ধভাবে বিশ্বাস করবে না। নিরাপত্তার জন্য মনে কিছুটা অবিশ্বাস রেখো।”

আমি তখন হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু নতুন গৃহকর্মী আসার পাঁচ মাস পর যখন সে চুরি করল, তখনই টনক নড়ল।

চুরি সহ্য করা যায়—মানুষ সান্ত্বনা দিয়ে বলে,“মালের উপর দিয়ে গেছে, জানের সদকা!” কিন্তু যদি বুয়ার হাতে প্রাণটাই হারাতে হয়? সেটাকে কীভাবে সহ্য করবেন?

বাসার গৃহকর্মীই হলো সেই ব্যক্তি, যার ৩০ দিন/মাস আপনার বাসায় বিনা অনুমতিতে প্রবেশের অ্যাক্সেস থাকে। দারোয়ান থামায় না, মালিক সন্দেহ করে না।
এ সুযোগে চাইলে খাবারে কিছু মিশিয়ে, ঘুমের ওষুধ দিয়ে, কিংবা বাইরে কাউকে ডেকে ভয়ঙ্কর অপরাধ ঘটানো কারও জন্যই কঠিন নয়।

তারপরও আমরা তাদের বাসায় ঢোকার অনুমতি দিই—কারণ আমাদেরও তাদের প্রয়োজন আছে, তাদেরও আমাদের প্রয়োজন আছে। এখানেই আসে বিশ্বাসের প্রশ্ন।

কিন্তু এই বিশ্বাস যেন অন্ধবিশ্বাস না হয়।
পরিচয় যাচাই ছাড়া, ছবি–ভোটার আইডি ছাড়া, ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই ছাড়া কাউকে বাসায় নেওয়াই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।

বাস্তবতা  হলো—
গৃহকর্মীর পরিচয়পত্র, ছবি, ঠিকানা সব থাকার পরেও বিপদ হতে পারে।
বহু বছর ধরে পরিবারের সদস্য হয়ে যাওয়া মানুষও কখনও হঠাৎ বিশ্বাস ভাঙতে পারে।
মানুষের চরিত্র অপ্রত্যাশিত—এটাই সত্য।

চারদিন আগের ঘটনা—মোহাম্মদপুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ড

ঢাকার মোহাম্মদপুরে চারদিন আগে ‘আয়েশা’ নামের একজন গৃহকর্মীকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
আজ সকালে সে নিয়মমতো কাজে আসে। গৃহকর্তা স্কুলে থাকাকালে স্ত্রী ও দুই কন্যাকে বাসায় পায়।

এরপর—
সে স্ত্রী ও কন্যাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। পালানোর জন্য ছোট কন্যার স্কুল ড্রেস পরে ছদ্মবেশে বাসা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

বাবা—যিনি একজন শিক্ষক—প্রতিদিনের মতো স্কুলে গিয়েছিলেন। নবম শ্রেণির মেয়েটির আজ সর্বশেষ পরীক্ষা ছিল। আর কোনোদিন পরীক্ষায় বসা হলো না।
এক মুহূর্তে তার হাসিখুশি পরিবার নিঃশেষ হয়ে গেলো।

ঘটনার মোটিভ এখনও পরিষ্কার নয়, কিন্তু বাবার ক্ষতি অপূরণীয়।
জীবিত থেকেও যেন তিনি মৃত—এমনই এক ট্র্যাজেডি।

বিশ্বাসের সমাজে ‘সতর্কতা’ই এখন বেঁচে থাকার শর্ত

এই সমাজে টিকে থাকতে হলে মানুষকে মানুষকে বিশ্বাস করতেই হয়।
কিন্তু আমার নিজের অভিজ্ঞতা ও আজকের এই ভয়ঙ্কর ঘটনা আমাকে শিখিয়েছে—
আমি কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করি না।
নিজের পরিবার ও নিজের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ‘অবিশ্বাস’ পুষে রাখি।

সতর্ক থাকুন

গৃহকর্মী নিয়োগের আগে ভোটার আইডি, ছবি, ঠিকানা যাচাই করুন

স্থানীয় থানায় বা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে ভেরিফিকেশন করুন

বাসার ভেতর প্রবেশের অ্যাক্সেস সীমিত রাখুন

বাসায় সিসিটিভি রাখুন

সন্তান বা বাসায় একা থাকা সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন থাকুন

আল্লাহ আমাদের পরিবার–পরিজনকে হেফাজত করুন।
সতর্ক থাকুন, নিরাপদ থাকুন।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ