প্রতারণার জালে পড়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন এক নারীর পাঁচ স্বামী
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ১৯ জুলাই, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
মো:শাহরিয়া
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ
তালাস ক্রাইম দৃষ্টির সাংবাদিক মো:দ্বিন ইসলামের নিজস্ব প্রতিবেদন তিনি জানান কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীতল গ্রামের এক নারী—চাঁদনী আক্তার, পিতার নাম রহমান নিয়া। তবে সমাজ তাকে আজ চিনে এক ভিন্ন পরিচয়ে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক পুরুষকে ফাঁদে ফেলে বিয়ে, মোটা অঙ্কের কাবিন আদায়, পরে তালাক ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ। এই নারীর প্রতারণার কাহিনি যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। একের পর এক বিয়ে, মোটা কাবিন, তারপর মামলা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চাঁদনী আক্তার কখনো ‘চাঁদনী আক্তার মায়া অন্তত পাঁচজন পুরুষকে বিয়ে করেন। প্রতিবারই কাবিনে উল্লেখ করেন নিজেকে ‘কুমারী’। তবে বাস্তবে তিনি আগে থেকেই বিবাহিত এবং তার রয়েছে তিনটি সন্তান।
বিয়ের অল্প কিছুদিন পরেই স্বামীকে তালাক দিয়ে কাবিনের টাকা আদায় করেন এবং স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করেন একাধিক মিথ্যা মামলা।
তার এ প্রতারণার জালে পড়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন সেনাবাহিনীর সদস্য, ব্যবসায়ী এবং প্রবাসীরাও।
ধ্বংস হয়েছে পরিবার, অনিশ্চয়তায় সন্তানরা
ভুক্তভোগী পুরুষদের কেউ মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন, কেউ এখন রিকশাচালক বা অটোচালক, আবার কেউ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন দেনার চাপে। তাদের সন্তানরা বড় হচ্ছে অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে।
এক ভুক্তভোগীর ১৮ বছরের পুরোনো সংসার ভেঙে গেছে চাঁদনীর ফাঁদে পড়ে। সে সংসারে ছিল তিনটি সন্তান। আরেকজনের চার-জন সন্তান আছে, যাদের ভবিষ্যৎ আজ প্রশ্নবিদ্ধ।
শুধু বিয়েই নয়, রয়েছে আরও গোপন অভিযোগ।
চাঁদনী আক্তারের বিরুদ্ধে শুধু বিয়ে ও কাবিন নিয়ে প্রতারণাই নয়, অভিযোগ রয়েছে, তিনি অসামাজিক কার্যকলাপের সাথেও জড়িত। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিয়ের বাইরে একাধিক পুরুষের সঙ্গে রাতযাপনের সম্পর্কও গড়ে তুলেছেন তিনি, যাদের কেউ কেউ তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
সাংবাদিকরা হুমকির মুখে, রয়েছে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাও
চাঁদনী আক্তারের প্রতারণা নিয়ে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা পড়েছেন হুমকির মুখে। অভিযোগ, এই নারীর পেছনে রয়েছে কিছু রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তা, যারা তাকে রক্ষা করে চলেছেন। ফলে, একাধিক অভিযোগ থাকার পরও তিনি আইনের আওতার বাইরে রয়েছেন।
❓ সমাজের সামনে জেগে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন:
এমন প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা কোথায়?
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও শিশুদের ভবিষ্যৎ কে দেখবে?
কেন প্রশাসন এখনো নিরব?
বারবার একই পদ্ধতিতে প্রতারণা করেও কি কেউ থেকে যাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে?
মামলা বিচারাধীন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে আদালত
চাঁদনী আক্তার মায়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত একাধিক মামলা বর্তমানে কুমিল্লা দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে আদালতই সিদ্ধান্ত দেবেন—তিনি দোষী নাকি নির্দোষ। তবে সামাজিকভাবে তিনি ইতিমধ্যেই প্রশ্নবিদ্ধ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য:
এই প্রতিবেদনটি একটি অনুসন্ধানভিত্তিক প্রতিবেদন। এতে যে সব অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলো এখনো আদালতে বিচারাধীন।
আপনার মতামত লিখুন :